সুন্নি মনীষীদের দৃষ্টিতেও কেন ইয়াজিদ চরম ঘৃণার পাত্র? (পর্ব ০১)



সুন্নি মনীষীদের দৃষ্টিতেও কেন ইয়াজিদ চরম ঘৃণার পাত্র? (পর্ব ০১)

ভুমিকা

ইয়াজিদ সম্পর্কে ইতিহাসের পাতা থেকে মহান সুন্নি মনিষীদের মনোভাব তুলে ধরব, যাতে প্রমাণিত হয় যে, ইয়জিদকে শুধু শিয়ারাই ঘৃণা করে না, বরং মহান সুন্নি মনীষীদের দৃষ্টিতেও সে চরম ঘৃণার পাত্র। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া লিহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর বংশের প্রতি যারাই যুলুম-নির্যাতন করেছে, তাদের তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতে শাস্তি দেবেন, এ কথা নিশ্চিত। কিন্তু দুনিয়াতেও যে তারা আল্লাহর ঘৃনার পা্রে হয় তা কোরাআন থেকে বুঝা যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করছেন :

إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُهِينًا

যারা আল্লাহ্ তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ্ তাদেরকে ইহকাল পরকালে অভিসপ্ত করেন এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি (আহযাব/৫৭)

কিন্তু এজিদ কেন মুসলমানদের কাছে চরম ঘৃণার পাত্র হল তার কিছু কারণ এখানে তুলে ধরব :

ইমাম হোসাইনের শাহাদাত ও এজিদের কর্মকান্ড

মহাশয়তান অভিশপ্ত ইয়াজিদ ও তার দলবল সব সময়ই ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে নানা ধৃষ্টতাপূর্ণ, অশালীন ও অযৌক্তিক মন্তব্য করেছে। মহাবেয়াদব ইয়াজিদের কাছে যখন ইমামের কর্তিত শির মুবারক আনা হয় তখন ইয়াজিদ তার হাতে থাকা বেতের ছড়িটি দিয়ে  ওই পবিত্র শিরে খোঁচা মারতে থাকে। (হাসান বসরির বর্ণনা, ইবনে কাসিরের বই-বিদায়া ও নিহায়া। খণ্ড -৭, পৃষ্ঠা-১২২)

ইবনে কাসির অন্য এক সূত্রে উল্লেখ করেছেন: ইয়াজিদের হাতে একটি বেতের ছড়ি ছিল। সে তা দিয়ে হযরত হুসাইন (আ.)র দাঁত মুবারকের ওপর প্রহার করে দাগ বসিয়ে দেয়। এরপর (অভিশপ্ত) ইয়াজিদ বলে: এর এবং আমাদের  দৃষ্টান্ত হল যেমনটি হুসাইন ইবনুল হারাম মুররি বলেছে: আমাদের কাছে শক্তিমান বহুজনের মস্তক চৌচির করে ফেলা হয় এমতাবস্থায় যে তারা বড় নাফরমান চরম জালিম

[অর্থাত ইয়াজিদের দৃষ্টিতে হযরত হুসাইন (আ.) ছিলেন নাকি বড় নাফরমান ও জালিম (নাউজুবিল্লাহ)। তাই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের পিপাসার্ত অবস্থায় হত্যার পাশাপাশি  তাঁদের লাশের ওপর ঘোড়া দাবড়িয়ে সেসবকে ছিন্ন-ভিন্ন করাসহ তাঁদের সঙ্গে যেসব বর্বর-পৈশাচিক আচরণ করা হয়েছে সেসবই ছিল তার দৃষ্টিতে যৌক্তিক!!! (নাউজুবিল্লাহ)]

অন্য বর্ণনা অনুযায়ী ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (আ.)র কর্তিত শিরের দুটি চোখে ও তাঁর নাসিকায় বেত্রাঘাত করেছিল। আর এ দৃশ্য দেখে রাসূল (সা.)র সাহাবি আবু বারজা (রা.) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়াজিদকে বলেন: তুমি কি তোমার ছড়ি দিয়ে হুসাইনের দাঁতের সারিতে আঘাত করে দাগ বসিয়ে দিলে? সাবধান! তোমার ছড়িটি তাঁর দাঁতের সারিতে দাগ বসিয়েছে এমন স্থানে যেখানে মুখ রেখে চুষতে দেখেছি আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে। সাবধান রোজ হাশরে তথা বিচার দিবসে তোমার শাফায়াতকারী (বিদ্রূপাত্মক অর্থে) বা সঙ্গী হবে (অভিশপ্ত) ইবনে জিয়াদ। আর হুসাইনের শাফায়াতকারী হবেন খোদ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। এ কথা বলে তিনি ইয়াজিদের দরবার থেকে বের হয়ে যান। (তাবারি এবং বিদায়া ও নিহায়া। খণ্ড যথাক্রমে ৭ ও ৫ এবং পৃ-১৯২;২৬৮ ও ৫১৬। )

ইয়াজিদ মদিনায় নিযুক্ত উমাইয়া শাসক ওয়ালিদ ইবনে উতবাকে নির্দেশ দিয়েছিল-হুসাইনকে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে, আবদুর রহমান ইবনে আবুবকরকে ও আবদুল্লাহ ইবনে যোবাইরকে শক্তভাবে বায়আত করার জন্য পাকড়াও কর। যে-ই বায়আত তথা আমার আনুগত্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করবে তার মাথা কেটে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও (মাকতালই খাওয়ারিজমি, ১ম খণ্ড, ১৭৮-১৮০পৃ.)



1 2 next