ইমাম হাসান (আ.) ও মুয়াবিয়ার সন্ধি-চুক্তি

সংকলক : আলহাজ্ব ডক্টর মোঃ সামিউল হক


এতসব কারণে মুয়াবিয়কে প্রতিরোধ করতে না পেরে অগত্যা সন্ধি করতে বাধ্য হন। তবে মুয়াবিয়া সেই সন্ধিতে কোন শর্ত যোগ করেন নি, বরং সন্ধির সব শর্তই ইমাম হাসান আ. দিয়েছিলেন এবং মুয়াবিয়া কথা দিয়েছিল যে, যদি ইমাম হাসান তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তবে তার দেয়া শর্তের সবই তিনি পালন করবেন। যদিও মুযাবিয়া কার্যত তার একটি শর্তও মেনে চলেন নি।

সন্ধির কিছু শর্ত:

·      মুয়াবিয়াকে হযরত আলী (আ.)র বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, অপবাদ ও প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

·      মুয়াবিয়াকে অনৈসলামী আচার-আচরণ পরিহার করতে হবে।

·      জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারগুলোকে অর্থ সাহায্য দিতে হবে ইরানি প্রদেশগুলোর সরকারি আয় থেকে।

·      মুয়াবিয়া কোনো ব্যক্তিকেই  (খেলাফতের জন্য) নিজের উত্তরসূরি মনোনীত করতে পারবে না।

·      মুয়াবিয়া মারা গেলে খেলাফত ফেরত দিতে হবে ইমাম হাসান (আ.)র কাছে।

·      ইমাম হাসান (আ.) যদি মারা যান, তাহলে মুসলিম জাহানের খেলাফত হস্তান্তর করতে হবে রাসূল (সা.)র ছোট নাতি হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)র কাছে।

কিন্তু মুয়াবিয়া প্রকাশ্যেই নির্লজ্জভাবে সন্ধির শর্তগুলো লঙ্ঘন করেছিল। মুয়াবিয়া ৫০ হিজরিতে  গোপনে বিষ প্রয়োগ করে ইমাম হাসান (আ.)-কে শহীদ করে। ৬০ হিজরিতে মৃত্যুর কিছু দিন আগে মুয়াবিয়া তার মদ্যপ ও লম্পট ছেলে ইয়াজিদকে মুসলমানদের খলিফা বলে ঘোষণা করে। 

মুয়াবিয়া বলত যেখানে টাকা দিয়ে কাজ হয় সেখানে আমি টাকা বা ঘুষ ব্যবহার করি, যেখানে চাবুক দিয়ে কাজ হয় সেখানে আমি তরবারি ব্যবহার করি না, আর যেখানে তরবারি দরকার হয় সেখানে তরবারি ব্যবহার করি। মুয়াবিয়া রাজ-কোষাগারকে ব্যবহার করত প্রভাবশালী লোকদের পক্ষে আনার কাজেঅন্যদিকে হযরত আলী (আ.) রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রতিটি পয়সার হিসেব নিতেন ও তা শরীয়ত অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত করতেন।

উপসংহার

আর এভাবেই ইসলামের সূর্য ডুবে যায় এবং ইসলামি খেলাফত রাজতন্ত্রে পরিনত হয় যার প্রভাব এখনো আরব দেশগুলোতে বলবৎ রয়েছে যে, কারণে মক্কা মদীনাতেও বর্তমানে হজ্বের আহকাম ও নামায রোযা ছাড়া ইসলামের ছোয়া দেখা যায় না, যদিও কারো দাবী যে, সেখানেই সঠিক ইসলাম রয়েছে, কিন্তু তা মূলতঃ ওহাবি চিন্তাধারা, যা মুসলামনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে আসছে ও আমাদের সুন্নি ভাইদের কাছ থেকে তাদের সুন্নতি আকিদা সমূহ কেড়ে নিয়ে ওহাবি আকিদা চাপিয়ে দিচ্ছে। মুসলমান ভাই-বোনেদের আহ্বান করব: আসুন আমরা এই সব চক্রান্ত ও কুফরী ফতোয়া থেকে ইসলামকে রক্ষা করি।

সূত্র: রেডিও তেহরান, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ খৃ.



back 1 2