হাঙ্গেরিয় নও-মুসলিম 'আবদুল করিম জারমানুস'

রেডিও তেহরান

ডক্টর আবদুল করিম জারমানুস প্রাচ্য সম্পর্কিত জ্ঞানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি প্রাচ্যের জাতি ও সংস্কৃতিগুলো সম্পর্কে জানতে গিয়ে বহু জাতির আচার-আচরণ ও প্রথা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কিন্তু বিশ্বের ইতিহাস ও সভ্যতায় ইসলামের অবদান তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

"আমি এটা লক্ষ্য করেছি যে, যেসব দেশে ইসলাম প্রবেশ করেছে এবং সেখানকার জাতিগুলো যথাযথ ও পরিপূর্ণভাবে ইসলামের বিধিবিধান পালন করেছে সেইসব দেশের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। এমনকি ইউরোপের কোনো কোনো দেশও ইসলামের সামাজিক আইনকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান যুগে মুসলমানরা ইসলাম সম্পর্কে অসচেতন হয়ে আছে।  ইসলামের উন্নত ও গঠনমূলক শিক্ষা থাকা সত্ত্বেও তারা নিজ নিজ দেশে উপনিবেশবাদীদের শেকড় গাড়ার এবং ইসলামী বিধি-বিধানকে ক্ষত-বিক্ষত  সুযোগ দিয়েছে। এইসব মুসলমান বলে যে মানব-জীবনে ইসলামের কোনো ভূমিকা নেই।"

 পবিত্র কুরআনের সমৃদ্ধ বাণী মানুষকে নানা বিষয়ে সক্রিয় হওয়ার ও সংকল্পবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা যোগায়। আর এ বিষয়টি আবদুল করিম জারমানুসকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

" যখন আমি কুরআন অধ্যয়ন করতাম তখন অধ্যবসায়ী হবার ব্যাপারে কুরআনের বার বার উতসাহ প্রদান আমাকে অভিভূত করত। মহান আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করে না, যতক্ষণ না নিজেরাই নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে না। এ বিষয়টি ছিল আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে এ বিশ্বাসও ছিল গুরুত্বপূর্ণ যে যখন প্রচেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা করা হয় তখনই সাফল্য আসে।"

 জারমানুস নিজ জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত প্রসঙ্গে বলেছেন: ভারত সফরের সময় সেখানকার একটি মসজিদে প্রবেশ করে আমি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি সেটাই ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম মুহূর্ত। কারণ, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথটি বেছে নিয়েছি আমি। ওই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তটি মুসলমানদের অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে আরো সুমিষ্ট ও আনন্দদায়ক হয়েছিল।" #



back 1 next