সমাজবিমুখ ইবাদত আর ইবাদতবিমুখ সমাজমুখিতা

শহীদ মোতাহহারী


تَرَىهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُوْنَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَ رِضْوَانًا سِيْمَاهُمْ فِى وُجُوْهِهِمْ مِنْ أثَرِ السُّجُوْدِ.

সাথে সাথেই খোদায়ী মূল্যবোধের কথা বলছে। ঐ ব্যক্তিটি যে সমাজমুখী সে ব্যক্তিটিই খোদার মোকাবিলায় নত, সেজদাবনত, নিজের মনের কথা ও বেদনা খোদার নিকট ব্যক্ত করে। তাঁর কাছ থেকে এর থেকে উত্তরণের জন্য সাহায্য চায় যেন নিজের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। যা তার আছে তাতে সে সন্তুষ্ট নয়, বরং প্রতি মুহূর্তে নিজের অবস্থার উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষী। তার সব ইবাদতের লক্ষ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্থাৎ ইবাদতের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থায় সে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাদের চেহারায় ইবাদতের চি‎‎হ্ন লক্ষণীয়।

ذَلِكَ مَثِلُهُمْ فِى التَّوْرية وَ مَثَلُهُمْ فِى الإِنْجِيْل كزرعٍ اَخرج شطأه

অতঃপর ইসলামী সমাজকে বর্ণনা করছে এটা কেমন? বলছে, এটা এমন এক সমাজ যাকে তুলনা করা যায় একটি বৃক্ষের সঙ্গে; প্রাথমিক অবস্থায় তা দুর্বল ও ক্ষুদ্র থাকলেও পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়ে ফুলে-ফলে পূর্ণতা লাভ করে, কৃষকের চোখে আনন্দের জোয়ার আনে।
দেখুন
, কোরআন অন্য একটি স্থানে এ দুপ্রবণতার (বহির্মুখী ও অন্তর্মুখী) সহাবস্থানের কথা কিভাবে বলছে,


اَلتّائِبُوْنَ العَابِدُوْنَ الْحَامِدُوْنَ السَّائِحُوْنَ الرَّاكِعُوْنَ السَّاجِدُوْنَ

খোদায়ী দিকগুলো, যেমন পরিশুদ্ধতা অবলম্বনকারী, ইবাদতকারী, খোদার প্রশংসাকারী, রোযা পালনকারী, রুকুকারী, সেজদাকারী বলার সাথে সাথে আবার উল্লেখ করছে,

الامرُوْنَ بِالْمَعْرُوْف وَ الناهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَر

তারাই সমাজের সংস্কারকারী, সমাজে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারী।
অন্য আয়াতে বলছে
,

اَلصَّابِرِيْنَ وَ الصَّادِقِيْنَ وَ الْقَانِتِيْنَ وَ المُنَفِقِيْنَ

ধৈর্যধারণকারীরা (দৃঢ়তা অবলম্বনকারী বিশেষ করে যুদ্ধের ময়দানে), সত্যবাদীরা, দানকারীরা, সত্যপন্থীরা। এর পরপরই বলছে, وَ الْمُسْتَغْفِرِيْنَ بِالاسْحَار অর্থাৎ শেষ রাত্রিতে ক্ষমা প্রার্থনাকারীরা। অর্থাৎ ইসলামে এ বৈশিষ্ট্যগুলো একটি আরেকটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কেউ যদি এগুলোর যে কোন একটিকে ছোট করে দেখে তবে অন্যগুলোকেও ছোট করে দেখছে।



back 1 2 3 4 next