তাকলীদ

আয়াতুল্লাহ আল উজমা সিস্তানী


খ- দুই জন আদেল ব্যক্তির কাছ থেকে শুনে, যারা মুজতাহিদের ফতোয়া বর্ণনা করে থাকেন;

গ- এমন ব্যক্তির কাছ থেকে শোনা যার কথার উপর নির্ভর করা যায়; এবং

ঘ- মুজতাহিদের লেখা রিসালা[3] দেখে, যার নির্ভরযোগ্যতা রয়েছে।

মাসআলা: ৫- মুজতাহিদের ফতোয়া পরিবর্তন হয়েছে বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত রিসালা অনুসরণ করাই যথেষ্ট; পরিবর্তন হবার ব্যাপারে সম্ভাবনা থাকলেও সেজন্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই।

মাসআলা: ৬- যদি লাম মুজতাহিদ কোন বিষয়ে ফতোয়া দেয় তাহলে সে বিষয়ে অন্য কোন মুজতাহিদের ফতোয়া অনুসরণ করা মুকাল্লিদের জন্য বৈধ (জায়েয) নয়।

কিন্তু সে যদি কোন বিষয়ে ফতোয়া না দিয়ে শুধু বলে যে, এহতিয়াতস্বরূপ ... এরূপ করতে হবে। এরূপ এহতিয়াতকে এহতিয়াতে ওয়াজিব বলা হয়। তখন হয় এহতিয়াতে ওয়াজিবের উপর আমল করতে হবে, নতুবা সে বিষয়ে অন্য কোন মুজতাহিদের ফতোয়া থাকলে সে মোতাবেক আমল করতে হবে। তবে জ্ঞানের দিক থেকে সে মুজতাহিদকে নিজ মুজতাহিদের কাছাকাছি হতে হবে।

অনুরূপভাবে যেসব বিষয়ে মুজতাহিদ বলে থাকে যে, বিষয়টি আরো গবেষণা করা প্রয়োজন সেসব বিষয়েও করণীয় একই।

মাসআলা: ৭- যদি লাম মুজতাহিদ কোন বিষয়ে ফতোয়া দেয়ার আগে বা পরে এহতিয়াতস্বরূপ কিছু বলে থাকে, তাহলে তাকে এহতিয়াতে মুসত্মাহাব বলা হয়ে থাকে এবং তখন সে এহতিয়াত পরিত্যাগ করলে শরিয়তি বিধানে অসুবিধা নেই।

মাসআলা: ৮- যে মুজতাহিদের তাকলীদ করা হচ্ছে তিনি যদি মারা যান, তাহলে তাঁর ফতোয়া বা হুকুম নিজের জন্য জীবিত মুজতাহিদের হুকুমের মধ্যে শামিল হবে। অর্থাৎ যদি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানি বা লাম কোন মুজতাহিদের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে তার তাকলীদ করতে হবে; নতুবা পূর্বোক্ত মুজতাহিদের ফতোয়া মোতাবেক আমল করতে হবে।

তবে যদি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানি বা লাম কোন মুজতাহিদের ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া যায় বা নিজ মুজতাহিদের সমপর্যায়ের মুজতাহিদের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে সে মোকাল্লিদ তাদের যেকোন একজনের অনুসরণ করতে পারবে; তবে যদি উভয় ফতোয়া অনুসরণের ব্যাপারে সার্বিক জ্ঞান থাকে যেমন : কোন নামাজ আদায়ের বিষয়ে মতভেদ দেখা দেয় এবং একজন পুরা নামাজ আদায়ের অপরজন কসর পড়ার ফতোয়া দেন, তবে এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে উভয়টি পালন করতে হবে।



back 1 2 3 next