তাকলীদ

আয়াতুল্লাহ আল উজমা সিস্তানী


তাকলীদের আহকাম

মাসআলা: ১- উসূলে দীন সম্পর্কে (ধর্মের মৌলিক বিষয়) প্রত্যেক মুসলমানের সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক এবং বিষয়ে তাকলীদ করা যাবে না। অর্থাৎ বিষয়ে কারো কথার অনুসরণ করা যাবে না। কিন্তু কেউ যদি ইসলামের আকিদা বিশ্বাসকে একিনের সাথে গ্রহণ করে এবং সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় (যদিও সে সম্পর্কে তার স্পষ্ট জ্ঞান না থাকে) তবুও সে মুসলমান এবং মুমিন; তার উপর ইসলামের সকল আহকাম জারি হবে।

কিন্তু ধর্মীয় আহকাম পালন করার ক্ষেত্রে -যে সকল বিষয় ধর্মের অত্যাবশ্যকীয় এবং অকাট্য বিষয় বলে পরিগণিত নয়- কোন ব্যক্তিকে তিনটি পথের একটি পথ গ্রহণ করতে হবে; হয় তাকে মুজতাহিদ হতে হবে (মুজতাহিদ তাকে বলা হয় : যিনি ইসলামের উৎস সমূহ হতে দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে আহকাম বা আদেশ-নিষেধ বের করতে পারেন) অথবা কোন মুজতাহিদের অনুসরণ করবে নতুবা এহতিয়াত[1] তথা সতর্কতার সাথে স্বীয় কর্তব্য এমনভাবে পালন করবে যে, তার দৃঢ় বিশ্বাস হবে যে সে স্বীয় দায়িত্ব পালন করেছে। একথা বলা আবশ্যক যে, এহতিয়াতের ভিত্তিতে আমল করতে হলেও মুজতাহিদ হওয়া আবশ্যক। তাই কোন ব্যক্তি যদি মুজতাহিদ না হয়, তাহলে মুজতাহিদের তাকলীদ করা তার জন্য ওয়াজিব।

মাসআলা: ২- তাকলীদ করার অর্থ হল, মুজতাহিদের নির্দেশমত আমল করা। 

 যে মুজতাহিদের তাকলীদ করা হচ্ছে তাঁর মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যে থাকতে হবে : ১) তাকে পুরুষ লোক হতে হবে। ২) তাকে বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। ৩) জ্ঞানী বা সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। ৪) শিয়া ১২ ইমামের অনুসারী (শিয়া ইসনা আশারী) হতে হবে। ৫) বৈধ সন্তান হতে হবে। ৬) (প্রাথমিক পর্যায়ে তাকলীদ করার ক্ষেত্রে মুজতাহিদকে) জীবিত হতে হবে। ৭) আদিল তথা ন্যায়পরায়ণ  হতে হবে।[2]

যদি বিশেষ কিছু মাসলা/মাসায়েল (যেসব মাসআলা প্রাত্যহিক দিবসে ঘটমান হয়ে থাকে) সম্পর্কে মুজতাহিদদের ফতোয়ার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, তাহলে সেসব ক্ষেত্রে এমন মুজতাহিদের তাকলীদ করতে হবে যিনি সকল মুজতাহিদদের মধ্যে (হর হুকুম সম্পর্কে) অধিকতর জ্ঞানী।

মাসআলা: ৩- মুজতাহিদ ও আ‘লাম মুজতাহিদ (অধিকতর জ্ঞানী মুজতাহিদ)‘কে তিনটি পন্থায় সনাক্ত করা যায় যথা : (ক) মুকাল্লিদগণ (অনুসারীগণ) নিজেরা এতটুকু জ্ঞান হাসিল করবে যে, তারা নিজেরা হবে তথ্যাভিজ্ঞ (আহলে খোবরা) তথা মুজতাহিদ আ‘লাম মুজতাহিদকে চেনার মত যোগ্যতা তাদের থাকবে ( ব্যাপারে তারা নিজেরাই নিশ্চিত হবে)।

(খ) দুজন ন্যায়পারায়ণ আলেম যারা মুজতাহিদ লাম মুজতাহিদকে সনাক্ত করতে পারে অথবা কাউকে অধিকতর জ্ঞানী বলে সত্যায়ন করে,  তবে শর্ত হল অন্য দুজন ন্যায়পরায়ণ (আদিল) আলেম তাদের কথার বিরোধিতা করবে না বরং একজন তথ্যাভিজ্ঞ (আহলে খোবরা) লোকের কথা দেয়া তথ্য যদি নির্ভরযোগ্য হয় তবুও তা প্রমাণিত হয়।

(গ) তাঁর খ্যাতি এত ব্যাপক হবে যে, তার ইজতিহাদ অথবা লাম হবার বিষয়টি নিশ্চিত হয়; অর্থাৎ যৌক্তিকভাবে তা প্রমাণিত হয়; উদাহরণসরূপ কিছু সংখ্যক আলেম মুজতাহিদ লামকে চিহ্নিত করবে এবং তারা মুজতাহিদ হওয়া অথবা লাম হওয়াকে সত্যায়ন করবে।

মাসআলা: ৪- মুজতাহিদের ফতোয়া সংগ্রহ করার চারটি পন্থা রয়েছে :

ক- মুজতাহিদের কাছ থেকে সরাসরি শুনে;



1 2 3 next