পবিত্রতা (তাহারাত)

ড. মোহাম্মদ সামিউল হক


৭- নাক, মুখ, ঠোটের কিছু অংশ ও চোখ বন্ধ অবস্থায় যা দেয়া যায় না তা ধোয়া ওয়াজিব নয়। কিন্তু যে অংশগুলো অবশ্যই ধুতে হবে তা সঠিক ভাবে ধোয়া হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে বিশ্বাস অর্জনের জন্য ঐগুলোর কিছু অংশ ধোয়া ওয়াজিব (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৪২)

৮- ওযুর অংশের চামড়া অথবা মাংস কেটে গিয়ে থাকে- যদি তা সম্পূর্ণ কেটে গিয়ে থাকে তবে অবশ্যই ঐ কাটা অংশের নিচে ধুতে হবে- আর যদি তা সম্পূর্ণ না কেটে গিয়ে থাকে তবে তা অবশ্যই ধুতে হবে এবং ঐ স্থানের যথটুকুই বাইরে বেরিয়ে আছে তাও ধুতে হবে (আল্‌ উরওয়াতুল উসকা, খণ্ড-১, ফাসলু ফি আফআলিল ওযু, পৃঃ-২০৫, মাসআলা নং-১৪)

৯- পুড়ে যাওয়ার কারণে চামড়ার উপরে যে ফোসকা পড়েছে তা যতদিন পর্যন্ত থাকবে তার উপরে ধোয়াটাই যথেষ্ট হবে। যদিও তা ছিদ্র হয়ে গিয়ে থাকে। আর ফোসকার যে অংশ উঠে গেছে এবং চামড়া বের হয়েছে ততটুকুই ধোয়া যথেষ্ট হবে। তবে বাকি অংশ উঠিয়ে ফেলার বা তার নিচে পানি পৌছানোর কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি এমন হয় যে, ফোসকা কখনো চামড়ার সাথে লেগে থাকে আবার কখনো তা লেগে থাকে না তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তার নিচেও ধুতে হবে (আল্‌ উরওয়াতুল উসকা, খণ্ড-১, পৃঃ- ২০৬, মাসআলা নং-১৬)

১০- এমনই চামড়া যা ক্ষতস্থান ভাল হয়ে যাওয়ার জন্য তার উপর লেগে থাকে তা উঠিয়ে ফেলার কোন প্রয়োজন নেই বা তার উপরিভাগ ধুলেই যথেষ্ট হবে। যদিও তা উঠিয়ে ফেলা সহজ হয়ে থাকে। তবে ক্ষতস্থানের উপর যে ঔষধ লেগে থাকে তা যদি তুলে ফেলা সম্ভব হয় তবে অবশ্যই তুলে ফেলতে হবে। আর যদি তা তুলে ফেলা সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে জাবিরাহ্‌ ওযু করার যে নিয়ম আছে তা প্রযোজ্য হবে। জাবিরাহ্‌ ওযু করার নিয়মাবলী উক্ত অধ্যায়ে আলোচিত হবে (আল্‌ উরওয়াতুল উসকা, খণ্ড-১, পৃঃ-২০৬, মাসআলা নং-১৭)

১১- ওযুর অংশগুলো ধোয়ার পদ্ধতি

ক)- প্রথমবার: ওয়াজিব।

খ)- দ্বিতীয়বার: জায়েয।

গ)- তৃতীয়বার: বিদয়াত বা হারাম।

১২- ধৌত করার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পানি ঢালাই নয় বরং তা পরিপূর্ণভাবে ধোয়ার কথাই প্রকাশ করে। অর্থাৎ যদি একবার পরিপূর্ণভাবে ওযুর নিয়তে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল অথবা হাত ধোয়া হয় এবং দ্বিতীয়বারও অনুরূপ করে তবে তৃতীয়বার তা করা হারাম হবে। সুতরাং যদি কয়েকবার পানি ঢেলে থাকে এবং ওযুর সমস্ত অংশে পানি না পৌছে থাকে তবে তা একবার ধোয়া হিসাব হবে না। আর যদি একবার পানি ঢালাতেই বা পানি ধম্যে ডুবানোতেই ওযুর সমস্ত অংশে পানি পৌছে থাকে তবে তা একবার ধোয়া হয়েছে হিসাব হবে (ইসতিফতায়াত, খণ্ড-১, পৃঃ-৩৪, প্রশ্নঃ-৩৫)

১৩- ওযুর অংশগুলো (ওযুর নিয়তে) তিনবার ধৌত করা হারাম বা বিদয়াত হওয়া ছাড়াও তা ওযু ভঙ্গের কারণ হয়ে থাকে, কেননা মাসেহ্‌ করাটা ওযুর পানির মাধ্যমে হতে হবে কিন্তু তৃতীয়বার ধোয়ার পরে হাতে লেগে থাকা পানি আর ওযুর পানি বলে গণ্য হয় না। তাই তা দ্বারা মাসেহ্‌ করলে ওযু সঠিক হবে না (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৪৮ ও ইসতিফতায়াত, খণ্ড-১, পৃঃ-৩৪ ও ৩৫)



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 next