পবিত্রতা (তাহারাত)

ড. মোহাম্মদ সামিউল হক


মুওয়ালাত (পর পর আঞ্জাম দেয়া):

১- মুওয়ালাত হচ্ছে পর পর আঞ্জাম দেয়া, অর্থাৎ ওযুর আমলের মধ্যে যেন কোন দুরত্ব সৃষ্টি না হয়।

২- যদি ওযুর করণীয় কাজ গুলির মধ্যে এতটাই দুরত্বের সৃষ্টি হয় যে, যখন ওযুর অন্য কোন অংশকে ধুতে বা মাসেহ্‌ করতে গেলে দেখা যাবে পূর্বে ধোয়া বা মাসেহ্‌ করা স্থান শুখিয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ওযু বাতিল হবে। কিন্তু যদি যে স্থান পরবর্তীতে ধুবে বা মাসেহ্‌ করবে তার সিক্ততা শুখিয়ে যেয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে ওযু সঠিক হবে (তাহ্‌রিরুল ওয়াছিলাহ্‌, খণ্ড-১, ফাছলু ফি সারায়েতিল ওযু, পৃঃ-২৮)

৩- ওযু করার সময় হাটা বা চলা-ফেরা করাতে কোন সমস্যা নেই। সুতরাং যদি মুখমণ্ডল ও হাতদ্বয় ধৌত করার পর কয়েক কদম হেটে যায় (যতটুকু গেলে মুওয়ালাত নষ্ট হয়ে যায় না) এবং পরে মাথা ও পায়ের মাসেহ্‌ করে তবে সেক্ষেত্রে ওযু সঠিক হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৮৫)

৩- অন্যের কাছ থেকে সাহায্য না নেয়া:

১- যে ব্যক্তি ওযুর আমলসমূহ নিজেই আঞ্জাম দিতে পারে সে যেন অন্য কারো কাছ থেকে সাহায্য না নেয়সুতরাং যদি অন্য ব্যক্তি ওযু করা ব্যক্তির মুখ ও হাত ধুয়ে দেয় এবং মাসেহ্‌ করিয়ে দেয় তবে সেক্ষেত্রে ওযু বাতিল হবে। কিন্তু যদি অন্য ব্যক্তি ওযু করা ব্যক্তির হাতে পানি ঢেলে দেয় এবং ব্যক্তি নিজেই নিজের ওযুর অংশগুলোর উপর পানি দিয়ে ধৌত করে তবে সেক্ষেত্রে ওযু বাতিল হবে না। তবে প্রকৃতপক্ষে অন্যের কাছ থেকে সাহায্য নেয়াটা হচ্ছে মাকরুহ (আল্‌ উরওয়াতুল উসকা, খণ্ড-১, ফি সারায়েতিল ওযু, আত্তাসেয়া’, পৃঃ-২৩৪)

২- যে ব্যক্তির পক্ষে ওযু করা সম্ভব নয়, সে অবশ্যই তা আঞ্জাম দেয়ার জন্য কাউকে দায়িত্ব প্রদান করবে। সেক্ষেত্রে ঐ দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এ কাজের জন্য অর্থ চায় তবে তা তাকে দিবে। কিন্তু অবশ্যই ওযুর নিয়ত নিজেকে করতে হবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৮৬)

৩- যে ব্যক্তি ওযুর জন্য অন্যের সাহায্য নিয়ে থাকে সে ওযুর যে কয়টি আমল নিজেই করতে পারবে তা একাই আঞ্জাম দিবে, সে সকল ক্ষেত্রে অন্যে সাহায্য যেন না নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৮৭)

৪- যে ব্যক্তি অন্যকে ওযু করিয়ে থাকে মাসেহ্‌ করানোর সময় সে যেন ঐ ব্যক্তির হাত মাথা ও পায়ের উপর টানে। তবে যদি তা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির হাত থেকে সিক্ততা নিজের হাতে লাগিয়ে নিজের হাতকে মাসেহ্‌ করার স্থানে টানে। আর যদি সম্ভব হয় তবে এহতিয়াতে ওয়াজিব হচ্ছে তায়ম্মুও আঞ্জাম দেয় (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৮৬)

যেব্যক্তি ওযু করবে তার শর্তাবলী:

১- যে ব্যক্তি জানে যে, ওযু করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়বে অথবা ভয় পাচ্ছে যে, অসুস্থ হয়ে পড়বে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সে তায়ম্মুম করবে। কেননা যাদি সে ওযু করে তবে তা বাতিল হবে। কিন্তু যদি না জানে যে, পানির ব্যবহার তার জন্য ক্ষতি হতে পারে ও ওযু করে এবং পরে বুঝতে পারে যে, ক্ষতি হয়েছে তবে সেক্ষেত্রে তার ওযু সঠিক হবে (আল্‌ উরওয়াতুল সকা, খণ্ড-১, ফি সারায়েতিল ওযু, আস্‌সাবেয়াপৃঃ-২৩২, তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৮৮, ৬৭২)

২- ওযু অবশ্যই কাসদে কুরবাত আঞ্জাম দিতে হবে, অর্থাৎ আল্লাহ্‌র নির্দেশ পালন করার উদ্দেশ্যে ওযু করবে (তৌযিহুল মাসায়েল, ওযুর শর্তাবলী, ৮নং শত )

৩- নিয়ত মুখে বলার দরকার নেই অথাব নিজের অন্তরে বলবে বরং এতটুকুই যথেষ্ট যে, তার জানা থাকতে হবে সে ওযু করছে। এমনই যে, তাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে কি করছো? বলবে, ওযু করছি (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং-২৮২)

৪- ওযুতে শুধুমাত্র কাসদে কুরবাত করাই যথেষ্ট হবে বা প্রয়োজন নেই যে, উজুব ও ইসতিহ্‌বাব নিয়ত করবে অর্থাৎ ওয়াজিব বা মুসতাহাব নিয়ত করার প্রয়োজন নেই (তাহরিরুল ওয়াসায়েল, খণ্ড-১, পৃঃ-২৯, মাসআলা নং-২০)



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16