পবিত্রতা (তাহারাত)

ড. মোহাম্মদ সামিউল হক


পবিত্রতা (তাহারাত)

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামায পড়তে যাবে; তখন স্বীয় মুখমন্ডল হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং মাথা ও পদযুগল গিটসহ মাসেহ্ কর। যদি তোমরা জুনুব হয়ে থাক, তবে গেোসল করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল হাতদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ্তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর। (মায়েদাহ/৬)

যেরূপে প্রথম পাঠে বলা হয়েছে যে, ইসলামের সমগ্র কার্য সম্পাদন করার প্রক্রিয়াকে (আহ্‌কাম) বলা হয়ে থাকে। সেগুলোর মধ্যেই একটি হচ্ছে ওয়াজিব বিষয়সমূহ। আর তাই নামায হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ ওয়াজিব বিষয়।

নামায সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যথা:

- মুকাদ্দিমাতে নামায (নামাযের প্রাথমিক বিষয়সমূহ) : নামাযী অবশ্যই নামায আদায়ের পূর্বে সেগুলো সম্পাদন করবে।

২- মুকারিনাত (নামায আদায় সংক্রান্ত বিষয়সমূহ): যে বিষয়গুলো নামায আদায়ের জন্য প্রযোজ্য, যেমন: তাকবিরাতুল ইহ্‌রাম থেকে শুরু করে সালাম পর্যন্ত।

৩- মুবতিলাত (নামায বালিত করণ): যে কারণসমূহ নামাযকে বাতিল করে দেয়।

মুকাদ্দিমাতে নামায (নামাযের প্রাথমিক বিষয়সমূহ)

নামাযের সব থেকে প্রাথমিক কাজ হচ্ছে তাহারাত (পবিত্রতা) হাসিল করা। আর নামাযের জন্য তা দুপর্যায়ে অর্জন করা প্রয়োজনীয়, যথা:

ক)- তাহারাতে বাতেনি (আভ্যন্তরিণ পবিত্রতা): এটা অর্জনের জন্য কাছদে কুরবাত (আল্লাহ্‌র জন্য আঞ্জাম দিচ্ছি এমন নিয়্যত) করার প্রয়োজন রয়েছে। আর এর সাথে সাথে ওযু, গোসল অথবা তায়াম্মুমের মাধ্যমে তা অর্জিত হয়ে থাকে।



1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 next