আযান, ইকামত ও নামাযের ওয়াজিব বিষয়াবলী

ড. মোহাম্মদ সামিউল হক


-  নিয়্যত উচ্চারণ করে বলার প্রয়োজন নেই। তবে যদি তা উচ্চারণ করেও বলে তাতে কোন অসুবিধা নেই (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪৩)

- নামায অবশ্যই সকল ধরনের রিয়া অথবা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য আওতাহীন হতে হবে; অর্থাৎ নামায শুধুমাত্র আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তাআলার নির্দেশ পালনের নিমিত্তে আঞ্জাম দিয়ে হবে। আর যদি ওই নামায অথবা তার কোন একটি ক্ষুদ্রতম অংশও আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে পড়া হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে (তৌযিহুল মাসায়েল, মাসআলা নং ৯৪৬-৯৪৭)

-  যদি নামাযি আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তাআলার নির্দেশ পালন ছাড়াও নামায পড়ার ক্ষেত্রে অন্য উদ্দেশ্যও রেখে থাকে তবে তা তিনটি শর্তযুক্ত হলে অসুবিধা নেই। শর্ত তিনটি হচ্ছে যথা:

- রিয়া অথবা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য না থাকে।

- আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তাআলার নির্দেশ পালনটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য কিন্তু তার সাথে অন্য নিয়্যতও সংযুক্ত করা।

- অন্য যে নিয়্যত সংযুক্ত করবে তা যেন অবশ্যই মুবাহ্‌ অথভা নেক উদ্দেশ্য হয়। সুতরাং যদি আল্লাহ্‌ তাবারাক ওয়া তাআলার নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে নামায পড়ে সাথে সাথে সংযুক্ত নিয়্যত হিসেবে ওই নামায পড়ার নিমিত্তে অন্যকে তা শিক্ষা দান করা, এক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই (তাহ্‌রিরুল ওয়াসিলাহ্‌, খণ্ড -, কিতাবুস সালাত,  ফুসলু  ফি আফয়ালিস সালাত, পৃ. ১৫৭, মাসআলা নং ৩)।

নিয়্যত পরিবর্তন করা:

-  এক নামায থেকে অন্য নামাযে নিয়্যত পরিবর্তন করা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোন অসুবিধা নেই যথা:

- আসর নামাযের থেকে যোহ্‌রের নামাযে নিয়্যত পরিবর্তন করা। এমনটাই যে, আসর নামায পড়ার মধ্যে বুঝতে পারে যে যোহ্‌র নামায পড়া হয় নি অথবা তা পড়া হয়েছে কিন্তু বাতিল হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ওয়াজিব হচ্ছে নিয়্যত পরিবর্তন করে যোহ্‌রের নামাযের নিয়্যত করতে হবে।

- আসরের কাযা নামায থেকে যোহ্‌রের কাযা নামাযে নিয়্যত পরিবর্তন করা।



back 1 2 3 4 5 6 7 next