হযরত আয়াতুল্লাহ্‌ আল্‌ উজমা হাজ শেইখ ত্বাকী বাহজাত ফুমেনী (মুঃ)

ড. মোহাম্মদ সামিউল হক


প্রবিত্র কোম নগরীর এক জন অন্যতম মুজতাহীদ, যিনি ইসলামী শিক্ষার উচ্চ পর্যায়ে দরসে খারেজের উসুল ফেকাহ্‌ শাস্ত্র প্রশিক্ষণে মশগুল আছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর আধ্যাত্মিক অঙ্গনেও যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে।

হিঃ ১৩৩৪ সনে ফুমেন শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কারবালাঈ মাহমুদ বাহজাত হিঃ ১৩৩৪ সনের শেষের দিকে এলাকার বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রশিদ্ধ ছিলেন তিনি ফুমেনের পাঠশালাতে প্রথমিক শিক্ষা সমাপণ করেন। অতঃপর  হিঃ ১৩৪৮ সনে ফুমেন শহরেই ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনে মগ্ন হন

তিনি আবরী ব্যাকারণ শাস্ত্র শিক্ষা সমাপ্তির পর ধর্মীয় নগরী কোমে যাত্রা করেন। কোমে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থানের পর কারবালাতে যান; সেখানে আয়াতুল্লাহ্‌ আল্‌ উজমা আবুল কাসিম খুইয়ী (রঃ) এর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন শুরু করেন।

অতঃপর হিঃ ১৩৫২ সনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য নাজাফ শহরে আসেন এবং এখানে অখুন্দ খোরাসানীর কোন এক ছাত্রের কাছে শিক্ষা শুরু করেন। তিবি বেশ কয়েক জন মহান আয়াতুল্লাহ্‌ হাজ্জ আকা দ্বিয়া আরাকী, মীর্যা নাঈয়েনীর ক্লাস থেকে উপকৃত হওয়ার পর, আয়াতুল্লাহ্‌ হাজ্জ শেইখ মুহাম্মদ গারাবী ইসপাহানীর নিকট ক্লাস শুরু করেন। একই ভাবে তিনি আয়াতুল্লাহ্‌ আল্‌ উজমা সাইয়েত আবুল হাসান ইসপাহানী হাজ্জ শেইখ মুহাম্মদ কাজীম শীরাজী থেকেও অনেক উপকৃত হন। অন্য দিকে তিনি উসুল ফিকাহ্‌ শাস্ত্র ছাড়াও মরহুম সাইয়েদ হুসাইন বদকুবে (রঃ) এর নিকট দর্শণ শাস্ত্রের সর্বোচ্চ গ্রন্থ ইবনে সীনার ইশারাত মোল্যা সাদরা (রঃ) এর আসফর গ্রন্থ শিক্ষা লাভ করেন।

অবশেষে তিনি হিঃ ১৩৬৪ সনে ইরানে ফিরে এসে আয়াতুল্লাহ্‌ আল্‌ উজমা কুহ্‌ কামারী (রঃ) এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণে মশগুল হন। একই ভাবে তিনি হযরত আয়াতুল্লাহ্‌ আল্‌ উজমা বুরুজেরদি (রঃ) এর ফেকাহ্‌ উসুলের আলোচনাতে অংশ নেন।

তিনি ৫০ বছর যাবৎ দরসে খারেজের উসুল ফেকাহ্‌ শাস্ত্র প্রশিক্ষণে মশগুল ক্ষ্যতি সৃষ্টি করেছিলেন অবশেষে তিনি ২৭ শে উর্দিবেহেশ্ত ১৩৮৮ ফার্সি সনে তার অগণিত ভক্তবৃন্দকে কাঁদিয়ে এই দুনিয়া ত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান।