সূরা আলে ইমরান ২৩-২৭ (পর্ব ৫)

রেডিও তেহরান

সূরা আলে ইমরান; আয়াত ২৩-২৭ (পর্ব ৫)

সূরা আলে ইমরানের ২৩ ও ২৪ তম আয়াতে আল্লাহপাক বলেছেন-

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يُدْعَوْنَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ وَهُمْ مُعْرِضُونَ (23) ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ وَغَرَّهُمْ فِي دِينِهِمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ (24)

"তুমি কি তাদের দেখনি যাদেরকে ঐশীগ্রন্থ তাওরাত দেয়া হয়েছিল? তাদেরকে আল্লাহর গ্রন্থের দিকে আহবান করা হয়েছিল, যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয় কিন্তু একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়।" (৩:২৩)

"আল্লাহর বিধান মানতে অস্বীকার করে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এই বলে যে, অল্প ক'দিন ছাড়া দোজখের আগুন তাদেরকে কখনও স্পর্শ করবে না। এইসব কল্পনা ও মিথ্যাচার তাদের ধর্ম বিষয়ে তাদেরকেই প্রতারিত করেছে।" (৩:২৪)

এই আয়াতে ইসলামের নবীর উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, যদি ইহুদীরা ইসলাম ধর্মের প্রতি ঈমান না আনে, তাহলে আপনি দুঃখিত হবেন না। কারণ, এরা নিজেদের ধর্মই পালন করে না। এদের মধ্যে একজন ব্যাভিচার করার পর ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত অনুযায়ী পাথরের আঘাতে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনার শরণাপন্ন হয় এ আশায় যে, ইসলাম ধর্মের আইন হয়তো অন্য রকম হবে। কিন্তু আপনি কোরআনের আইন অনুযায়ী একই শাস্তি দেয়ায় সে তাওরাতের আইনকেও অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর এই বিধানকে গোপন রেখেছে।

পবিত্র কোরআন ইহুদীদের সুবিধাবাদী মানসিকতাকে ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ বলেই গণ্য করেছে। ইহুদীরা ভাবতো তারা আল্লাহর কাছে অন্যদের চেয়ে বেশী প্রিয় এবং ইহুদী জাতিই আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ জাতি। তাই তাদেরকে জাহান্নাম বা বিচার দিবসের মুখোমুখী হতে হবে না অথবা কয়েকদিনের বেশী শাস্তি ভোগ করতে হবে না।

এই আয়াতের শিক্ষনীয় দিকগুলো হলো,

এক : অহংকার করা ও নিজেকে বড় করে দেখার প্রবণতা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি ধর্মও যদি এই অহংকারের উৎস হয় তবুও তা বৈধ নয়।

দুই : প্রত্যেক মানুষই পৃথিবীতে ও পরকালে আল্লাহর আইনের কাছে সমান । এক্ষেত্রে কেউই কারো চেয়ে বড় নয়।



1 2 next