সূরা রা’দ

তাফসীর বিষয়ক রেডিও তেহরানের ধারাবাহিক আলোচনা


প্রকৃতির নিয়মেই আকাশে বিদ্যুত চমকায় এবং মেঘের গর্জন শোনা যায়, তবে অনেক ক্ষেত্রে ঐশী শাস্তি হিসেবে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে পবিত্র কোরআনে সামুদ গোত্র প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তাদেরকে বজ্রপাতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হয়েছে হাদীস শরীফে এসেছে যখনি আকাশে বিদ্যুত চমকাতো এবং মেঘের গর্জন শুরু হত তখনি নবী করিম (সা) দোয়া এবং এবাদতে মশগুল হতেন

যাই হোক প্রকৃতিও যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা কির্তন করে পবিত্র কোরআনে তা বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করা হয়েছে তবে বাস্তবতা হচ্ছে অধিকাংশ মানুষই তা উপলব্ধি করতে পারে না
এই আয়াত থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে এই বিশ্ব প্রকৃতিই স্রষ্টার অস্তিত্বের বড় প্রমাণ
কাজেই যে যত বেশি প্রকৃতিকে জানবে তার ইমান বা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ততই মজবুত হবে

( ১৪-১৬আয়াত )

পাঠক! আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে সূরা রা'দের ১৩ আয়াত পর্যন্ত আমরা আলোচনা করেছি তাই আজকের আসরে আমরা এই সূরার ১৪ থেকে ১৬ আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করব তাহলে এবার দেখা যাক ১৪ নং আয়াতে কি বলা হয়েছে

"তাকে ডাকাই বাস্তব এবং তাকে ছাড়া তারা যাদেরকে ডাকে, তারা তাদের কোন কাজে আসে না তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মত যে তার মুখে পানি পৌঁছাবে এ আশায় তার হস্তদ্বয় এমন পানির দিকে প্রসারিত করে যা তার মুখে পৌয়ছাবার নয় সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেরদের আহ্বান নিষ্ফল "

বিশ্ব জগতে মহান আল্লাহর পরাক্রম এবং স্রষ্টার প্রতি সকল সৃষ্টির নিরলস আনুগত্যের বর্ণনা দেয়ার পর এই আয়াতে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেরদের বিভ্রান্তি সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, তারা বিপদাপদ এবং প্রয়োজনের সময় এমনসব জড় বস্তুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে যারা তাদের চেয়েও অক্ষম যাদের কোন শক্তি বা সামর্থই নেই তাদের অবস্থা সেই ব্যাক্তির মত যে পানির কাছে পানি প্রার্থনা করে এবং পরিনতিতে পানি না পেয়ে তৃষ্ণার্ত থেকে কষ্ট পায়

আসলে প্রত্যেক মানুষই স্বভাবগতভাবেই প্রকৃত স্রষ্টাকে অন্বেষণ করে তবে এ ক্ষেত্রে অনেকেই বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতির কারণে প্রকৃত স্রষ্টার পরিবর্তে কল্পিত স্রষ্টার নিগড়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ে পানি মনে করে মরীচিকার পেছনে ছোটা যেমন তাদের অবস্থাও ঠিক তেমনই।

এই আয়াতে বুঝানো হয়েছে, প্রকৃত স্রষ্টা মহান আল্লাহর কাছে যদি কোন মানুষ সাহায্য কামনা করে, তার কোন প্রয়োজনের আর্জি নিয়ে আল্লাহর দরবারে নিবেদন করে তাহলে আল্লাহ তা'লা তার বান্দার আবেদন মঞ্জুর করেন, কিন্তু কেউ যদি বিভ্রান্ত হয়ে কল্পিত খোদার কাছে তার প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করে তাহলে এক্ষেত্রে কোন সুফল না পাওয়াটাই স্বাভাবিক

এবার ১৫ নং আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই এই আয়াতের অর্থ জানা যাক। এতে বলা হয়েছে, " ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় আল্লাহর প্রতি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছুই এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল সন্ধায় সিজদায় অবনত থাকে"

পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উদ্দেশে মাথানত করে সূরা নাহলের ৪৯ আয়াতেও বলা হয়েছে, "যা কিছু আকাশ মন্ডলীতে আছে আল্লাহকেই সিজদা করে পৃথিবীতে যত জীবজন্তু আছে এবং সকল ফেরেশতাগণও তারা অহংকার করে না"



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 next