সূরা রা’দ

তাফসীর বিষয়ক রেডিও তেহরানের ধারাবাহিক আলোচনা


এই সূরার ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে " তারা আপনার কাছে মঙ্গলের পরিবর্তে দ্রুত অমঙ্গল কামনা করে যদিও তাদের পূর্বে এর বহু দৃষ্টান্ত গত হয়েছে মানুষের সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও আপনার প্রতিপালক মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল এবং নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক শাস্তিদানেও কঠোর "

আল্লাহর রাসুল যখন হুমকির সূরে মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে বলতেন, যদি সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর নির্দেশ অমান্য কর এবং তাঁর অবাধ্য হও তাহলে জেনে রাখ শুধু পরকালেই নয় ইহকালেও তোমরা তার শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। তখন ঔদ্ধত কাফেররা বলত , তোমার বেহেশত আমাদের কোন প্রয়োজন নেই, যদি তোমার কথা সত্য হয়ে থাকে তাহলে এখনই ঐশী শাস্তি আন দেখি কাফেরদের এ ধরণের কথার পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াতে বলা হয়েছে , তারা শাস্তি বা অকল্যাণের জন্য খুব তাড়াহুড়া করেছিল আল্লাহ তাদের জবাবে বললেন, তোমাদের পূর্বে অনেক জাতিই কঠিন শাস্তির মুখে ধ্বংস হয়ে গেছে তোমরা একবার তাদের পরিণতির কথা চিন্তা করে দেখ ! বরং অতীত থেকে শিক্ষা নেবার চেষ্টা কর এবং শাস্তির জন্য তাড়াহুড়া করো না তোমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়াময় তোমরা সুপথে ফিরে আসলে তিনি তোমাদের অতীত পাপ ক্ষমা করে দিবেন তিনি পরম ক্ষমাশীল , মেহেরবান।

এই আয়াতে আমাদের জন্য শিক্ষা হচ্ছে , ঐশী শাস্তির ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত অতীত জাতিগুলোর ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং নিজেদের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ প্রত্যাশা করা
এখানে লক্ষনীয় আরেকটি বিষয় হলো, পাপাচার এবং ঔদ্ধত্যের কারণে মহান আল্লাহ সাথে সাথেই মানুষকে শাস্তি দেন না , তিনি মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেন
মানুষ তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। #

( ৭-১০আয়াত )

পাঠক! আশাকরি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং বিশ্ব নবী,সারওয়ারে কায়েনাত মোহাম্মাদ মোস্তফা (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি সালাম ও শুভাশীষ নিবেদন করে শুরু করছি আজকের আলোচনা।

আজকের আসরে সূরা রা'দের ৭ থেকে ১০ আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে শুরুতেই ৭ নং আয়াতের অর্থ জানা যাক। এতে বলা হয়েছে, "সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেররা বলে তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন মোজেজা বা নিদর্শন অবতীর্ণ হলো না কেন ? ( হে রাসুল) আপনি তো কেবল সতর্ককারী, এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই সতর্ককারী রয়েছে। "

যারা নেহায়েত গোয়ার্তুমির বশবর্তী হয়ে সত্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল , তারা বলতো হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) কেন অন্যান্য নবী রাসুলের মত মোজেজা বা অলৌকিক কর্ম প্রদর্শন করেন না ? এই আয়াতে কাফের মুশরেকদের এ ধরণের বক্তব্যের জবাব দেয়া হয়েছে।

প্রথমত: প্রত্যেক নবীর মোজেজা তার সময়ের সামাজিক প্রথা বা রীতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে যেমন হযরত মুসা (আ) এর সময় মিসরে যাদুর ব্যাপক প্রচলন ছিল কাজেই হযরত মুসা (আ) এর মোজেজাও ছিল অনুরূপ ফলে হযরত মুসা (আ) যখন তার মোজেজা প্রদর্শন করেন তখন ফেরাউন তাঁকে বড় যাদুকর আখ্যায়িত করেছিল তেমনিভাবে হযরত ঈসা (আ) এর যুগে চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি সাধিত হয়েছিল , তাই হযরত ঈসা (আ) এর মোজেজাও ছিল এর সাথে সম্পর্কিত যেমন তিনি মৃত প্রায় ব্যক্তিকে জীবন দান করতে পারতেন এবং অনেক কঠিন ব্যাধির আরোগ্য বিধান করতে পারতেন।

কিন্তু বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) যে যুগে নব্যুয়ত লাভ করেন সে যুগে আরবে কাব্য ও সাহিত্য বেশ উৎকর্ষতা লাভ করেছিল কাজেই বিশ্বনবীর উপর যে মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ হয় তা সাহিত্যিক মানের দিক থেকে অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়
এই আয়াতে আরেকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, কাফেরদের মধ্যে গোয়ার্তুমি ছিল প্রবল
সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা তাদের ছিল না কাজেই বিশ্ব নবী যদি তাদের আবদার অনুযায়ী কোন মোজেজা প্রদর্শন করতেন তাহলে তারা তা দেখেও সত্যকে গ্রহণ করতো না বরং অন্য কিছুর বাহানা আনতো। আসলে পাপের কালিমায় যাদের অন্তর আচ্ছাদিত হয়ে যায় তাদের পক্ষে সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না
এই আয়াত থেকে দুটো বিষয় আমরা সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারি

এক. নবী রাসুলদের আগমনের উদ্দেশ্য মোজেজা বা অলৌকিক কর্ম প্রদর্শন করা নয়
পৃথিবীতে তাদের আগমন ঘটেছে মানুষকে সতর্ক করার জন্য এবং তাদেরকে সত্য পথ প্রদর্শন করার জন্য।
দুই. বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) সর্বশেষ নবী ও রাসুল
তাঁর পর কোন নবী বা রাসুলের আগমন না ঘটলেও আল্লাহতা'লা প্রত্যেক সমাজেই আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন আলেম পাঠাবেন যারা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করবেন।

এবার আমরা নজর দিচ্ছি এই সূরার ৮ নং আয়াতের দিকে এই আয়াতে বলা হয়েছে, "নারীর গর্ভে যা আছে এবং জরায়ুতে যা কিছু পরিবর্তন ঘটে আল্লাহ তা জানেন এবং তার কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটি পরিমাণ রয়েছে।"



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 next