সূরা রা’দ

তাফসীর বিষয়ক রেডিও তেহরানের ধারাবাহিক আলোচনা


স্বাভাবিকভাবেই এই বৈশিষ্ট্যের লোকজন সমাজের সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখে না বরং তাদের সম্পর্ক হয় সমাজের অসৎ ব্যক্তিদের সাথে তাদের মনে ধর্ম বিশ্বাস এবং আল্লাহর ভয় থাকে না বলেই তারা সমাজে নানা অনাচার ও অরাজকতা সৃষ্টির কাজে লিপ্ত হয়

মানুষ যখন ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়, যখন তার মধ্যে আল্লাহর ভয় কাজ করে না তখনি সে বিভ্রান্তির গহীনে তলিয়ে যেতে থাকে এবং দূর্নীতি ও অনাচার তাকে গ্রাস করে আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা ছাড়াও ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেয়ার উপর খুবই গুরুত্ব আরোপ করেছে তবে লক্ষ্য করা যায় যে, যারা ধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান নয় তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারেও যত্নবান হয় না

এবার ২৬ নং আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিব , আয়াতটিতে বলা হয়েছে, "আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা তার জীবনোপকরণ বৃদ্ধি করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা তা সঙ্কুচিত করেন কিন্তু তারা (কাফেররা) পার্থিব জীবণের প্রতিই মুগ্ধ পার্থিব জগত পরকালের তুলনায় তুচ্ছ সম্পদ বৈ কিছু নয় "

সৎ এবং অসৎ ব্যক্তিদের পরিণতির বর্ণনা দেয়ার পর এই আয়াতে বলা হচ্ছে, ইহকাল ও পরকালে এই দুই দল মানুষের প্রাপ্তি এক নয় জীরনোপকরণ দেয়া না দেয়ার মালিক হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ তবে ইহকালে অবিশ্বাসী কাফেররা যে সম্পদ ও প্রতিপত্তি লাভ করে থাকে তা পরকালে সৎ এবং ঈমানদারদের প্রাপ্তির তুলনায় খুবই তুচ্ছ কাজেই কাফেরদের পার্থিব প্রাপ্তিকে মুমিনদের পরকালীন প্রাপ্তির সাথে কখনোই তুলনা করা উচিত নয় পার্থিব জীবণ খুবই ক্ষণস্থায়ী , এতে মুগ্ধ হওয়ার কিছু নেই

শুধু এটা লক্ষ্য রাখা উচিত, বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ার পর কেউ যেন আল্লাহর অনুগ্রহের কথা ভুলে না যায় আবার অভাবে পড়লে যেন হতাশ হয়ে না পড়ি এটা মনে রাখতে হবে যে দুনিয়া হচ্ছে পরীক্ষার জায়গা আর প্রকৃত পুরষ্কার লাভের স্থান হচ্ছে আখেরাত #

( ২৭-২৮আয়াত )

পাঠক! আজকের আসরে সূরা রা'দের ২৭ ও ২৮ আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হবে সূরা রা'দের ২৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে : ''যারা অবিশ্বাস করেছে তারা বলে তার প্রতিপালকের নিকট হতে তার কাছে কোন অলৌকিক নিদর্শন অবতীর্ণ হয় নি কেন ? বলুন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং তিনি তাদেরকেই পথ দেখান যারা তাওবা করে এবং তাঁর অভিমুখী হয়''

এই আয়াতে হঠকারী এবং একগুয়ে কাফেরদের অনাকাঙ্ষিন্ত আবদারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেররা বলতো, মুহাম্মাদ (দঃ) এর দাবী যদি সত্যি হয় তাহলে তিনি অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেন না কেন ? তাদের মনোভাব এমন ছিল যে, তারা যা বলবে আল্লাহর রাসুল যেন অলৌকিক ক্ষমতাবলে তখনই তা করে দেখান কিন্তু সর্বশেষ পয়গম্বর প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মাদ (দঃ) কে শুধু অলৌকিক কান্ড প্রদর্শনের জন্য পাঠানো হয় নি তিনি যে মহাগ্রন্থ মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন তা অত্যন্ত বিজ্ঞানময় এই মহাগ্রন্থই তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন তিনি মানুষকে তার জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তির উপর নির্ভর করে সত্যকে গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি যেমন সত্যপন্থীদের জন্য সুসংবাদ বয়ে এনেছেন তেমনি সত্য প্রত্যাখ্যানের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন ফলে অবিশ্বাসী কাফেরদের অযৌক্তিক আবদারের ব্যাপারে এই আয়াতে বলা হয়েছে, হে পয়গম্বর (দঃ)! আপনি বলে দিন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন অর্থাৎ যারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে তারা সুপথ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য লাভের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে আবার আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে সৎপথ প্রদর্শন করেন , এর অর্থ হচ্ছে যারা সত্যকে গ্রহণ করে, এ ব্যাপারে সৃষ্টিকর্তার সাহায্য কামনা করে আল্লাহ তা'লা তাদেরকে সুপথে আসার তাওফিক দান করেন

কাজেই যারা কোরআনের মত বিজ্ঞানময় গ্রন্থ প্রত্যক্ষ করার পরও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে না মহান আল্লাহও তাদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দেন, ফলে তারা আরো বিভ্রান্তির অন্ধকারে হারিয়ে যায়

আসলে যারা জ্ঞানী এবং সত্য সন্ধানী তারা নবীদের জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং যে কোন মুজেজা দেখা মাত্রই সত্যকে গ্রহণ করে নেয় কিন্তু যারা হঠকারী এবং যারা একগুয়েঁমী স্বভাবের তারা মুজেজা বা অলৌকিক ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করলেও সত্যকে মেনে নিতে চায় না বরং আরো বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করতে থাকে তারা পাপ এবং গোয়ার্তুমীর কারণে এক ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত ভালো কথা এবং ঐশী বাণী তাদের অন্তরে জ্বালার সৃষ্টি করে
আবর্জনা স্তুপে বৃষ্টি পড়লে তা থেকে অস্বস্থিকর দুর্গন্ধ ছড়ায় আবার এই বৃষ্টির কল্যাণেই উর্বর জমি ফসলে ভরে যায়
তেমনি ঐশী গ্রন্থ এবং নবী-রাসুলদের শিক্ষা রহমতের বৃষ্টির মত, অনুর্বর মাটিতে তা বর্ষিত হলে তাতে আগাছা ছাড়া অন্য কিছু জন্মায় না কিন্তু তা যদি কোন ফলের বাগানে কিংবা শস্য ক্ষেতে বর্ষিত হয় তাহলে তা ফুলে-ফলে এবং ফসলে সুশোভিত হয়ে পড়ে কাজেই এখানে যে বলা হয়েছে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে বিভ্রান্ত করেন, এর অর্থ এই নয় যে. আল্লাহ একদল মানুষকে ইচ্ছা করেই বিভ্রান্তিতে নিপতিত করেন বরং বিভ্রান্তির কারণ হচ্ছে তারা আল্লাহর বিধানকে গ্রহণ করে না বরং তারা আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয় ফলে তাদের মনোভাব এবং কৃতকর্মের কারণেই তারা সৎপথ লাভের ঐশী মদদ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে অপর দিকে যারা নিজেদের ভুলের জন্য অনুশোচিত মনে সত্যকে সন্ধান করে, তারা এ ব্যাপারে ঐশী মদদ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করে



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 next