তাফসীর বিষয়ক অনুষ্ঠান

রেডিও তেহরান


কোরআনের আলো
(
৬৫তম পর্ব )

সুপ্রিয় পাঠক ! কোরআনের আলোর আজকের পর্বে বনী ইসরাইল জাতির নেতা হিসেবে তালুতের নির্বাচন পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কিত আয়াত নিয়ে আলোচনা করা হবে । প্রথমেই সুরা বাকারার ২৪৯ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা করা যাক । এই আয়াতের অর্থ হলো " এরপর তালুত যখন সেনাদলসহ বের হল তখন সে বলেছিল নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি নদী দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করবেন । এরপর যেই সেখান থেকে পানি পান করবে সে আমার দলভূক্ত নয়। আর যারা তার স্বাদ গ্রহণ করবে না, তারা আমার দলভূক্ত । অবশ্য যে, তার হাতে এক কোষ পানি নেবে, সেও আমার দলভূক্ত । কিন্তু নদীর কাছে পৌঁছার পর, অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া সবাই নদী থেকে পানি পান করে । তালুত ও তার বিশ্বাসী সঙ্গীরা যখন নদীর তীরে পৌঁছেছিল, তখন তারা বলেছিল যে জালুত ও তার সেনাদলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি ও সাধ্য আজ আমাদের নেই । যাদের ধারনা ছিল যে, তারা নিশ্চই আল্লাহর সাথে মিলিত হবে । তারা বলেছিল আল্লাহর আদেশে অনেক সময় ক্ষুদ্র দল বৃহ দলের ওপর জয়ী হয়েছে এবং আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গী । গত পর্বে আমরা বলেছি যখন আল্লাহ তালুতকে বনি ইসরাইলীদের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করলেন তখন তারা তা মেনে নিতে রাজী হয়নি । তারা যুদ্ধ থেকে পালানোর জন্য অজুহাত তুলতে লাগলো । পরবর্তী পর্যায়ে একদল তালুতের সেনাপতিত্ব মেনে নিয়ে তার সাথে শহরের বাইরে রওনা হয় । কিন্তু তালুত তাদের আনুগত্যের মাত্রা যাচাই করার জন্য একটি নদীকে পরীক্ষার মাধ্যম করে বলেন, আমার প্রকৃত সহযোগী তারাই যারা তৃষ্ণা সত্ত্বেও প্রাণভরে ঐ নদীর পানি পান করবে না । শুধু হাতের তালু দিয়ে পানি নিয়ে গলা ভেজাবে মাত্র । এই আয়াতে বলা হয়েছে যে বেশি সংখ্যক লোকই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি । পানি দেখে তারা তাদের তৃষ্ণাকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেনি । আর তৃতীয় পর্যায়ে তারা শত্রুদের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দেয় এবং জালুতের সেনাদের সাথে য্দ্ধু করতে তাদের অক্ষমতা প্রকাশ করে । শুধুমাত্র প্রকৃত মোমেনরা যারা কিনা আল্লাহর প্রেমের মাধ্যমে তাদের মনোবলকে সুদৃঢ় রেখেছিল তারা প্রচন্ডভাবে রুখে দাঁড়ায় এবং শত্রুসেনাদের বিশাল সংখ্যা দেখেও মোটেও ভীত হয়নি । এবারে এ আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো,
প্রথমত : পানীয় ঐশী পরীক্ষার অন্যতম মাধ্যম। এজন্যে শুধু হারাম নয়, মাঝে মধ্যে হালাল বস্তু থেকেও দূরে থাকতে হবে, যাতে ইসলামী সমাজের নেতার প্রকৃত ও বাহ্যিক অনুসারীদের চিহ্নিত করা যায়।
দ্বিতীয়ত : আল্লাহর প্রতিশ্রুতিগুলো ও পরকালের প্রতি ঈমাণ সমস্যা ও বাধা-বিপত্তীর মোকাবেলায় মানুষের ক্ষমতা ও শক্তিকে বৃদ্ধি করে।
তৃতীয়ত : যুদ্ধ বা আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ও দৃঢ়তা অব্যাহত রাখা জরুরী। তালুত ও জালুতের ঘটনায় দেখা গেছে, অত্যাচারী তাগুতি সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শ্লোগান দেয়ার জন্য বহু লোক থাকা সত্ত্বেও খুব কম সংখ্যক লোকই শত্রুর বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়িয়ে ছিল।
এবারে সুরা বাকারার ২৫০ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব। এই আয়াতের অর্থ হ', "তারা যখন যুদ্ধ ক্ষেত্রে জালুত ও তার সেনা বাহিনীর মুখোমুখী হ', তখন তারা বলল : আমাদের কে ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান কর এবং অবিশ্বাসী দলের উপর আমাদের কে বিজয়ী কর। আমরা আগেই বলেছিলাম, ইহুদীরা জালুতের সেনাদেরকে দেখে ভয় পেয়ে যায় এবং শুধুমাত্র প্রকৃত ঈমানদাররাই যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়। কিন্তু প্রকৃত ঈমানদাররা ও এটা জানতো যে আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এত শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ওপর বিজয় লাভ সম্ভব নয়। তাই তারা আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং যুদ্ধের তীব্রতা ও শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ়তা ও ধৈর্য দেয়ার জন্যেও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক গুলো হ',
প্রথমত : চেষ্টা ও সাধনা ছাড়া শুধু দোয়া কার্যকরী হয় না। তালুতের বিশ্বস্ত সঙ্গীরা যুদ্ধের ময়দানে এসে বিজয়ের জন্য প্রার্থনা করেছিল।
দ্বিতীয়ত : ঈমানদার বা বিশ্বাসীদের লক্ষ্য হ', মিথ্যার ওপর সত্যের বিজয় এক জাতির ওপর অন্য জাতির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নয়। তাই তালুতের সঙ্গীরা অবিশ্বাসীদের ওপর বিজয় প্রার্থনা করে।
এবারে সুরা বাকারার ২৫১ ও ২৫২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব। এই আয়াতের অর্থ ', এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় তালুত ও তার সঙ্গীরা শত্রুদেরকে পরাজিত করেছিল এবং জালুত দাউদের হাতে নিহত হয়। পরে আল্লাহ দাউদকে রাজত্ব ও জ্ঞান দান করেছিলেন এবং আল্লাহ নিজ ইচ্ছামত তাকে শিক্ষা দান করেন। যদি আল্লাহ এক দলকে অন্যদল দিয়ে দমন না করতেন, তবে নিশ্চয়ই পৃথিবী অশান্তিপূর্ণ হত। কিন্তু আল্লাহ বিশ্বাসীর প্রতি অনুগ্রহশীল। এই সব হল আল্লাহর নিদর্শন আপনার কাছে এটা সত্যরূপে পাঠ করছি এবং নিশ্চয়ই আপনি রাসূলদের অন্তর্ভূক্ত। মোমেনদের প্রচেষ্টা ও আল্লাহর সাহায্যের ফলে অবশেষে অতি অল্প সংখ্যক বিশ্বাসী সুসজ্জিত বিশাল বাহিনীর ওপর জয়লাভ করে। দাউদ নামের বিশ্বাসী ও সাহসী এক যুবক শত্রুদলের সেনাপতি জালুতকে হত্যা করে। এরপর আল্লাহ দাউদের সাহসিকতা ও ঈমানের পুরস্কার হিসেবে তাঁকে নবী পদে উন্নীত করেন এবং তাঁকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন। আল্লাহ দাউদের পুত্র সোলায়মানকেও নবুওত দান করে দাউদকে সম্মানিত করেছিলেন। পাঁচটি আয়াতে উল্লেখিত এই ঘটনা বর্ণনার উদ্দেশ্য হ', ঈমানদারদের মনোবলকে শক্তিশালী করা। সেই সাথে এসব আয়াত এক শ্রেণীর মুসলমানদের জন্যেও সাবধানবাণী হিসেবে বিবেচিত হয় যারা মক্কা ও তাদের ঘরবাড়ী ত্যাগ করেছিল। তারা সংখ্যায় ছিল অল্প এবং তারা ধন সম্পদের অধিকারী ছিলনা কিন্তু তালুতের যুগের ইহুদীদের মত তারাও মক্কার মুশরিকদের কাছে বলতো আমাদের নবী হবার জন্য মোহাম্মদ কোন দিক থেকে বেশী যোগ্য? অথচ মক্কায় অনেক নামকরা ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। এবারে এই আয়াতের মূল শিক্ষণীয় দিকগুলো একে একে উল্লেখ করছি।
প্রথমত : কেউ যখন যোগ্যতা ও প্রতিভার প্রকাশ ঘটায় শুধুমাত্র তখনই সে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করে। দাউদ আল্লাহর পথে সাধনার মাধ্যমেই নবুওতের মর্যাদা লাভ করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত : যদি ধর্মের শত্রুর বিরূদ্ধে জিহাদ ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য না হতো তাহলে পৃথিবী অবিচার ও অশান্তিতে ভরে উঠতো তাই, আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হবার ব্যাপারে দুঃখ থাকা উচিত নয়।
তৃতীয়ত : এই ঘটনা থেকে আমরা এটাও শিখতে পারি যে, বিজয়ের শর্তগুলো হ', শক্তিশালী ও যোগ্য নেতা থাকা, আল্লাহর ওপর নির্ভর করা বা ভরসা রাখা ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হওয়া এবং যুদ্ধের জন্য ঐশী উদ্দেশ্য থাকা ,( যেমন -জাতির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সত্যের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।) #


কোরআনের আলো
(
৬৬তম পর্ব )

সুপ্রিয় পাঠক ! কোরআনের আলো অনুষ্ঠান থেকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। প্রথমে সুরা বাকারার ২৫৩ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', এই সকল নবী আমি তাঁদের কারো উপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। তাঁদের মধ্যে কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং তাঁদের কাউকে পদ মর্যাদায় উন্নত করেছেন। আমি মরিয়মপুত্র ঈসাকে স্পষ্ট নিদর্শনাবলী দান করেছি এবং তাঁকে পবিত্র আত্মা বা জিবরাইলের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছি। আল্লাহ চাইলে এইসব নবী আসার পর এবং মানুষের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনাদী আসার পরও তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধ করতনা। কিন্তু আল্লাহ মানুষকে পথ নির্দেশনা বা হেদায়াত গ্রহণে বাধ্য করতে চাননি। মানুষ সত্য মেনে নেয়ার ব্যাপারে মত-বিরোধে লিপ্ত ছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমান এনেছিল। আবার অনেকেই কাফের বা অবিশ্বাসী হয়েছিল। আল্লাহ যদি চাইতেন, তাহলে এই দুই দল পরষ্পরের সাথে সংগ্রাম করতনা। কিন্তু আল্লাহ যা চান, তাই করেন। আগের আয়াতে বলা হয়েছিল আল্লাহ হযরত দাউদ (আঃ) কে প্রজ্ঞা ও শাসন-ক্ষমতা দান করেন। এই আয়াতে নবীদের মধ্যে মর্যাদা ও অবস্থানের পার্থক্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সমস্ত নবীরা একই মর্যাদার অধিকারী নন। তাঁদের কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। যেমন, হযরত মুসা (আঃ) কোন মাধ্যম ছাড়াই আল্লাহর সাথে কথা বলতেন এবং হযরত ঈসা (আঃ) সব সময় জিবরাইলের মাধ্যমে সাহায্য পেতেন। এরপর মানুষ সম্পর্কে আল্লাহর এক গুরূত্বপূর্ণ নীতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে মানুষ তার নিজস্ব পথ নির্ধারনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। তারা ইচ্ছে করলে ঈমান আনতে পারে বা বিশ্বাসী হতে পারে। তারা ইসলামের নবীর অনুসারী হতে পারে কিংবা শুধুমাত্র অন্য কোন নবীর প্রতিও ঈমান আনতে পারে। নি:সন্দেহে যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তিনি মানুষের মধ্যে মতবিরোধ ও বিবাদ দূর করতে পারতেন এবং সব মানুষকে জোর করে একই পথের অনুসারী করতেন। কিন্তু এটা আল্লাহর নিয়ম নয়। বরং আল্লাহর নিয়ম হ', মানুষ স্বাধীনভাবেই কোন ধর্ম গ্রহণ করবে অথবা কোন ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করবে। সুরা বাকারার ২৫৩ নম্বর আয়াতের শিক্ষণীয় দিক হ',
প্রথমত : জোরপূর্বক ধর্মে দিক্ষিত করা মূল্যহীন। কেউ যদি স্বেচ্ছায় কোন ধর্ম গ্রহণ করে, তবেই তার মূল্য থাকবে। তাই ধর্ম নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক এবং কোন ধর্ম গ্রহণ করা বা না করা মানুষের ইচ্ছা বা বিচার-বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।
দ্বিতীয়ত : আল্লাহ নবীদেরকে স্পষ্ট যুক্তি ও দলীল- প্রমাণ সহকারে পাঠিয়েছেন। মানুষ কখনো অহমিকা বা খেয়ালীপনার কারণে এবং কখনো অজ্ঞতার কারণে নবীদেরকে মেনে নেয়না।
এবারে সুরা বাকারার ২৫৪ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করব। এই আয়াতের অর্থ হ', হে বিশ্বাসীগণ, আমি তোমাদের যে জীবিকা দান করেছি, শেষ বিচারের দিন আসার আগেই তা থেকে ব্যয় কর, শেষ বিচারের দিন ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুত্ব ও সুপারিশ থাকবেনা। জেনে রাখ, অবিশ্বাসীরাই সীমালংঘনকারী। এই আয়াতে মুমিনদের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলা হয়েছে যে, দুনিয়ার জীবনকে যেন তারা সূবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে এবং কিয়ামত বা বিচার দিবসের জন্য তারা যেন পাথেয় সংগ্রহ করে। তাই এ দুনিয়াতেই আল্লাহর সাথে লেন-দেন করতে হবে এবং এজন্যে নিজের সম্পদ থেকে অন্যদের দান-খয়রাত করতে হবে। বিচার দিবসে কেনা ও বেচার কোন ব্যবস্থা নেই এবং শাস্তি থেকে মুক্তি-পাওয়া বা সৌভাগ্য কেনার কোন সুযোগ নেই। বন্ধু এবং নিজের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে মহ লোকদের ওপর ও ভরসা করা উচিত নয়। কারণ, বিচার দিবসে তারাও কোনই উপকার করতে পারবেনা এবং তাদের সুপারিশ ও মধ্যস্থতাও কোন কাজে লাগবেনা। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক হ', আমাদের মধ্যে দানশীলতার মনোভাব সৃষ্টির জন্য আল্লাহ ৩টি দিকের কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত : আমাদের যা কিছু আছে তা আমাদের এসব কিছু দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত : আল্লাহ তার দেয়া সম্পদ থেকে কিছু অংশ দান করতে বলেছেন, সমস্ত সম্পদ দান করতে বলেননি।
তৃতীয়ত : বিচার দিবসে এই দান অন্য সব বন্ধুর চেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে দেখা দেবে।
এবারে সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করব। এই আয়াতের অর্থ হ', আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য বা মাবুদ নাই। তিনি চির-জিবীত ও নিত্য-বিরাজমান। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করেনা, আকাশ ও জমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে এমন আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে অনুরোধ করতে পারে? তাদের সম্মুখ ও পেছন বা বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি জানেন। তা-ছাড়া তাঁর অনন্ত জ্ঞানের কোন বিষয়েই কেউ ধারণা করতে পারেনা, অবশ্য আল্লাহ যতটা চান, ততটা জ্ঞান কাউকে দান করেন। সমস্ত আকাশ ও জমীন তিনিই পরিচালনা করছেন। এসবের রক্ষনাবেক্ষণ তাঁর জন্য কষ্টকর নয়। তিনি মহান ও মহিয়ান। এই আয়াতে কুরসী শব্দ থাকায় তা আয়াতুল কুরসি নামে বিখ্যাত। এতে এক আল্লাহর গুনাবলী ও সত্ত্বার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। সমস্ত ঐশী ধর্মের মূল বানী হ', তৌহিদ বা একত্ববাদ। একত্ববাদ মানুষকে মূর্তি ও কল্পিত খোদার উপাসনা করা থেকে মুক্তি দেয়। তৌহিদ মানুষকে তাগুতি ও অত্যাচারী শাসকের যাঁতকেল থেকে মুক্তি তরে তাদেরকে স্বাধীনতা ও সৌভাগ্যের পথ দেখায়। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ হ', এমন এক পরিচিত বাক্য যা জন্মের সময় মুসলমান নবজাতকের কান ও অন্তরকে প্রশান্তি দেয় এবং প্রতিদিন আযানের মধুর ডাকের সাথে এই বাক্য তাঁর সত্বায় মিশে যায়। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর অর্থ হ', আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ উপাস্য হবার যোগ্য নয়। সমস্ত পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের উস তিনি। আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে তাদের কেউই নিজ থেকে পূর্ণতারঅধিকারী নয় বলে তারা উপাস্য হতে পারেনা এবং তারা ভক্তি-শ্রদ্ধা পাবারও যোগ্য নয়। প্রকৃত জীব ', সেই জীবন যার ধ্বংস নেই এবং ঐ জীবনের অধিকারী হলেন আল্লাহ । আল্লাহ ছাড়া আর সবই ধ্বংসশীল। একমাত্র আল্লাহই কারো ওপর নির্ভরশীল নয় এবং সব কিছুই আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ কখনোই দূর্বলতা, ক্লান্তি, ঘুম ও তন্দ্রার শিকার হননা। আল্লাহ যদি মুহুর্তের জন্যেও বিশ্বকে স্বাধীন অবস্থায় ছেড়ে দেন, তাহলে কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকতো না। তিনিই সব কিছুর মালিক এবং সবই তাঁর রাজত্বের অন্তর্ভূক্ত বা মালিকানাধীন। কোনো মালিকানাধীন সত্ত্বার উপাসনা করবে? আমরা কেনো নিজের স্রষ্টা ও মালিকের উপাসনা করব না ? এবং কেনই বা অন্যদের দ্বারস্থ হব ? অবশ্য মুশরিকরাও আল্লাহকে বিশ্বের স্রষ্টা বলে মনে করে, কিন্তু তারা এটাও মনে করে যে, বিভিন্ন মূর্তি তাদের মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে। এই আয়াতে বলা হয়েছে, কল্পিত ও মনগড়া আশ্রয় ত্যাগ কর। শুধুমাত্র ঐশী মহাপুরুষ নবী বা আল্লাহর আওলিয়ারা সুপারিশ করতে পারবেন এবং তারাও আল্লাহর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করতে পারবেন না। আয়াতের শেষাংশে কুরসী শব্দ প্রয়োগ করে আল্লাহর অসীম শক্তি ও জ্ঞানের এ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে যে আল্লাহ শুধু প্রাণযুক্ত সত্ত্বার মালিক নন, সমস্ত সৃষ্টি জগতের সব কিছুর উপরই তাঁর কর্তৃত্ব রয়েছে এবং কোন কিছুই তাঁর কর্তৃত্ব ও ইচ্ছা থেকে স্বাধীন নয়। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক হ', আমরা এমন সত্ত্বার কাছে মাথানত করব যিনি জ্ঞান, ক্ষমতা, অনুগ্রহ প্রভৃতি দিকে চরম পূর্ণতার অধিকারী এবং যিনি সব ধরনের দূর্বলতা ও দোষ ত্রুটি থেকে মুক্ত। #

কোরআনের আলো
(
৬৭তম পর্ব )

সুপ্রিয় পাঠক ! কোরআনের আলো অনুষ্ঠান থেকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকের পর্বে সুরা বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াত থেকে ২৫৯ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করব । প্রথমে সুরা বাকারার ২৫৬ ও ২৫৭ নম্বর আয়াতের অর্থ ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন জোর জবরদস্তি নেই। কারণ, বিভ্রান্তির পথ থেকে সত্য পথকে সুস্পষ্ট করা হয়েছে। যে শয়তান বা তাগুতকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সে এমন সুদৃঢ় রজ্জু ধরে আছে যা কখনও ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ শ্রবণকারী মহাজ্ঞানী। যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যান। অন্যদিকে কাফেরদের পৃষ্ঠপোষক হ', তাগুত বা শয়তান, যে তাদের কে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। এরাই নরকের অধিবাসী। সেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। ঈমান বা বিশ্বাসের সম্পর্ক হৃদয়ের সাথে। আর বিশ্বাস কখনও জোর করে চাপিয়ে দেয়া যায়না। আচার আচরণ, দলীল প্রমাণ ধর্মীয় উপদেশ বা বতৃতা মানুষের মনকে কোন ব্যক্তি বা আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী করে তোলে। মহান আল্লাহ মানুষের পূর্ণতা ও উন্নতির জন্য একদিকে নবী রাসুল ও ঐশী গ্রন্থ পাঠিয়েছেন, তেমনি অন্যদিকে মানুষকে তার ইচ্ছামত নবী বা ঐশী গ্রন্থ বেছে নেয়ার বা অস্বীকার করার ও অধিকার দিয়েছেন। আর এজন্যে নবীরাও ঈমান আনার জন্যে কাউকে বাধ্য করেননি। এছাড়াও তাঁরা জানতেন জোর করে বিশ্বাস গ্রহণে বাধ্য করার কোন মূল্য নেই। কেউ যদি শয়তানী বা স্বৈরাচারী তাগুতী শক্তির কর্তৃত্ব অস্বীকার করে ও শুধু আল্লাহর দাসত্ব মেনে চলে তাহলে আল্লাহ তার তত্ত্বাবধান করে এবং জীবনের সংকটময় মুহুর্তে ও সব সময়ই তাকে সুপথ দেখিয়ে রক্ষা করেন। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ওপর ভরসা করে তারা তাগুতা, শির্ক ও কু-সংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় এবং আল্লাহ তাদেরকে বাস্তবতা উপলব্ধির পথ থেকে দূরে রাখেন। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক ',
প্রথমত : ধর্মের প্রতি বিশ্বাস তখনই মূল্যবান, যখন তা সচেতনতা ও জ্ঞান ভিত্তিক হয় এবং তা নিজ ইচ্ছায় কেউ গ্রহণ করে।
দ্বিতীয়ত : সত্যের পথ একটি , কিন্তু বিচ্যুতি বা বিভ্রান্তির পথ অনেক। আর এজন্যে পবিত্র কোরআনে নূর বা আলোকে একবচনে ও জুলমাতকে অন্ধকার সমূহ অর্থা বহুবচনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত : সত্যের পথ হ'ল আলোকিত এবং তা উন্নতি, গতিশীলতা, আশা ও প্রশান্তি এনে দেয়। আর মিথ্যার পথ হ'ল অন্ধকারময় এবং তা বিভ্রান্তি, অজ্ঞতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।
এবারে সুরা বাকারার ২৫৮ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ ', হে নবী, আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেননি, যে দম্ভভরে ইব্রাহীমের সাথে তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছিল, যেহেতু আল্লাহ তাকে রাজত্ব দান করেছিল। যখন ইব্রাহীম বলেছিল, আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সে অর্থা নমরুদ বলেছি, আমিই জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই। ইব্রাহীম বলল: নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিকে উদয় করান, তুমি ওকে পশ্চিম দিক থেকে উদয় করাও এতে সেই অবিশ্বাসী হতবুদ্ধি হয়েছিল এবং আল্লাহ অত্যাচারীদলকে পথ প্রদর্শন করেন না। ইতিহাস থেকে জানা যায় নমরুদ ছিল প্রাচীন ইরাকের ব্যবিলনের রাজা। সে নিজেকে খোদা বলে দাবী করত এবং প্রজাদের কে নিজের দাস বা বান্দা বলে মনে করত। যখন সে শুনল, ইবরাহীম (আঃ) মানুষকে এক আল্লাহর দিকে আহবান করছে তখন সে ইবরাহীম (আঃ) বললেন, মানুষের জন্ম ও মৃত্যু আল্লাহরই হাতে। নমরুদ তখন দুজন বন্দীকে এনে একজনকে মুক্তি দেয়ার ও অন্য বন্দীকে হত্যার নির্দেশ দেয় এবং বলে এভাবে আমি যাকে ইচ্ছে মৃত্যু দেই ও যাকে ইচ্ছে জীবিত রাখি। যদিও নমরুদের এই কাজ বিভ্রান্তি ছাড়া অন্য কিছু নয়। তবুও ইবরাহীম (আঃ) পূর্ব দিকে সূর্যের উদয় হওয়াকে আল্লাহর সৃষ্টি জগতের একটি মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন ও নমরুদ পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয় করাতে পারবে কিনা, প্রশ্ন করেন। নমরুদ এ প্রশ্ন শুনে হতবাক ও নিরুত্তর থাকে। কিন্তু সে সত্যকে মেনে নিতে রাজী হয়নি এবং পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী নমরুদ তখন হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে আগুনে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেয়। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হ',
প্রথমত : কোন মানুয়ের মধ্যে যদি জ্ঞান বা সচেতনতা না থাকে তাহলে সে মানুষ ক্ষমতা পেয়ে নিজেকে আল্লাহর দাস ভাবার পরিবর্তে নিজেই প্রভু হবার দাবী করতে পারে এবং এভাবে সে অহংকারী ও গর্বিত হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত : নবীরা যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করেন। কিন্তু অসত্যপন্থীরা ভুল, অন্যায় ও জোর জবরদস্তির পন্থা ছাড়া অন্য কিছুর আশ্রয় নিতে পারেনা।
এবারে সুরা বাকারার ২৫৯ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', অর্থা ঐ ব্যক্তির কাহিনী কি জান যে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কোন জনবসতি অতিক্রমের সময় বলেছিল, মৃত্যুর পর কিভাবে আল্লাহ একে জীবিত করবেন? এরপর আল্লাহ তাকে একশত বছর মৃত রেখে পূনরায় জীবিত করেন। আল্লাহ বলেন: তুমি কতকাল অবস্থান করলে? সে বলল, একদিন বা একদিনের কিছু অংশ। আল্লাহ বললেন না, তুমি বরং একশত বছর অবস্থান করেছ। তোমার খাবার ও পানীয়ের দিকে লক্ষ্য কর তা অবিকৃত আছে এবং তোমার গাধার দিকে তাকাও কারণ, তোমাকে মানব জাতির জন্য নিদর্শনস্বরূপ করব। আর গাধার হাড়গুলোর দিকে তাকাও, কিভাবে সেগুলোকে যুক্ত করি ও মাংস দিয়ে ঢেকে দেই। যখন এই বাস্তবতা তার কাছে স্পষ্ট ', তখন সে বলল, আমি জানি যে, আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী বনী ইসরাইলের নবী হযরত উজাইর (আঃ)'র জীবনে এ ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। তিনি ধ্বংসস্তুপে পরিনত একটি শহর অতিক্রমের সময় পুনরুত্থান বা কিয়ামত দিবসে মৃতদের পুনর্জীবিত করার ঘটনা দেখতে চেয়েছিলেন। যদিও তিনি কিয়ামতের ওপর ঈমান রাখতেন,তা সত্ত্বেও তিনি অন্তরের প্রশান্তির জন্য অনুরুপ কিছু দেখানোর জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেন। আর আল্লাহর নির্দেশে এই ঘটনা ঘটার ফলে তার কাছে আল্লাহর শক্তির বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে প্রমানিত হয়। একশত বছর পরও পচনশীল খাবার তাজা ছিল এবং আল্লাহর অনুগ্রহে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া গাধার হাঁড় পূণরায় প্রথম অবস্থা ফিরে পায়। অর্থা গাধাটিও জীবিত হয়। উজাইর নিজে একশ বছর মৃত থাকা সত্ত্বেও তার শরীরে কোন পরিবর্তন ঘটেনি। বরং তিনি ঘুম থেকে জেগে ওঠা মানুষের মতই সতেজ ছিলেন। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক ',
প্রথমত : পুনরুত্থান দিবস বা কেয়ামতের দিনে মানুষের পুনরায় জীবিত হওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। আর আল্লাহ পৃথিবীতেই এর প্রমান দেখিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত : আল্লাহ বিভিন্ন পন্থায় পৃথিবীতে তার শক্তির প্রমান দেখিয়ে থাকেন যাতে মানুষ এটা বুঝতে পারে যে, আল্লাহ সব কিছু করার ক্ষমতা রাখেন, তাই পুনরুত্থান বা কিয়ামতের ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। #

কোরআনের আলো
(
৬৮তম পর্ব )

সুপ্রিয় পাঠক ! কোরআনের আলো অনুষ্ঠান থেকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। কোরআনের আলোর গত অনুষ্ঠানে আমরা উজাইর নবী ঘটনা থেকে এটা জানতে পেরেছি যে কিভাবে আল্লাহ তাঁর মৃত্যুর একশ বছর পর পূণরায় তাকে এ দুনিয়ায় জীবিত করেছিলেন। এঘটনার মাধ্যমে আল্লাহ কিয়ামত বা বিচার দিবসে মৃত মানুষদের কে কিভাবে জীবিত করবেন সেটাই তাঁকে দেখিয়েছিলেন। কোরআনের আলো অনুষ্ঠানে আজ আমরা হযরত ইবরাহীম (আঃ)' জীবনের একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করব। হযরত ইবরাহীম (আঃ) একদিন নদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় এক মৃত জন্তুকে দেখলেন যা শরীরের কিছু অংশ নদীর মধ্যে এবং অন্য কিছু অংশ ছিল শুস্ক তীরের মধ্যে। পানির ও ডাঙ্গার জন্তুরা ঐ মৃত জন্তুটির গোস্ত খাচ্ছিল। ইবরাহীম (আঃ) এ ঘটনাটি দেখে ভাবলেন, যদি মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে মানুষের দেহ অন্যান্য জন্তুদের হেদের অংশ হয়ে পড়বে আর সে ক্ষেত্রে কিয়ামতের দিন এই ব্যক্তি কিভাবে তার আগের শরীর নিয়ে জীবিত হবে ? ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন আল্লাহর রাসুল। পুনরূত্থানের প্রতি বিশ্বাস রাখা সত্ত্বেও তিনি এধরনের মৃত ব্যক্তির জীবিত হবার ধরণ বা প্রক্রিয়া দেখিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেন। সুরা বাকারার ২৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহর সাথে তাঁর সংলাপের বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে।
এবারে সুরা বাকারার ২৬০ নম্বর আয়াতের অর্থ ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', যখন ইবরাহীম বলল, হে আমার প্রতিপালক আপনি কিভাবে মৃতদের জীবিত করবেন তা আমাকে দেখিয়ে দিন। এর উত্তরে শুনল, তুমি কি বিশ্বাস কর না ? উত্তরে সে বলল হ্যাঁ, কিন্তু আমি আমার মন কে প্রশান্ত করার জন্য তা দেখতে চাই। এরপর আল্লাহ বললেন, চারটি পাখি নাও এবং তাদের গোশত কেটে টুকরো টুকরো করে মিশিয়ে ফেল এরপর প্রত্যেক পাহাড়ের ওপর ওদের এক এক খন্ড রেখে তাদের নাম ধরে ডাক, তারা তোমার কাছে দৌড়ে আসবে। জেনে রাখ যে, আল্লাহ অতুলনীয় শক্তিশালী ও বিজ্ঞানময়। হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চারটি পাখি জবাই করে সেগুলোর গোশতের টুকরো ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি সেগুলোর টুকরো দশটি পাহাড়ের চূড়ায় রেখে পাখিগুলোর নাম ধরে
ডাকলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় পাখিগুলোর বিচ্ছিন্ন গোশত বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এক জায়গায় জড়ো হ' এবং আগের মতই জীবিত হয়ে ইবরাহীমের কাছে আসল। এভাবে হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর প্রশ্নের জবাব পেলেন। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক হ',
প্রথমত : পুনরূত্থান শারীরিক এবং প্রকৃতির নিয়মের ওপর আল্লাহর শক্তি কর্তৃত্বশীল। প্রকৃতির নিয়ম আল্লাহর শক্তির ওপর কর্তৃত্বশীল নয়। তাই কারো শরীরের বিভিন্ন অংশকে জড়ো করা এবং আগের মতই মানুষের শরীর গঠন করা পুনরূত্থান বা বিচার দিবসে আল্লাহর জন্য কঠিন কোন কাজ নয়।
দ্বিতীয়ত : যুক্তি ও প্রমান বিবেককে কোন কিছু মেনে নিতে বাধ্য করে , কিন্তু মানুষের মন শুধু যুক্তির মাধ্যমে প্রশান্ত হয় না। তাই আমাদের কে পূর্ণ ও আন্তরিক ভাবে বিশ্বাসী হবার জন্য আল্লাহর নেয়ামত বা অনুগ্রহ সমূহ এবং তাঁর শক্তির দিকে মনোযোগ ও দৃষ্টি দিতে হবে।
এবার সুরা বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', যারা আল্লাহর পথে নিজের ধন সম্পদ দান করে, তাদের দৃষ্টান্ত এমন যেন একটি শস্যবীজে সাতটি শীষ উপনড়ব হয়েছে এবং এর প্রত্যেক শীষে একশ শস্য রয়েছে। আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা আরো বহুগুনে বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ প্রশস্ত মহাজ্ঞানী।
এই আয়াত থেকে পরবর্তী ১৪টি আয়াতে দান-খয়রাত ও সুদ বর্জনের ওপর আলোচনা করা হয়েছে। আমরা যানি, প্রত্যেক সমাজে বিভিন্ন উপায় বা পেশার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা হয়। এই সব সমাজে মাঝে-মধ্যে বন্যা, ভূমিকম্প ও দুর্ভিক্ষের মত এমন সব প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে যে, তাতে সমাজের অনেক মানুষ তাদের আয়-উপার্জন হারিয়ে ফেলে এবং জীবিকা উপার্জনের ক্ষমতা ও তাদের থাকেনা। এদের রক্ষা বা মুক্তির উপায় কি ? এই সব মানুষরা চিরকাল কি দরিদ্র হয়েই থাকবে ? আর তারা যদি ধনীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তবে, তাদের কে কি সুদ যুক্ত ঋণ দিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ঐ ঋণ পরিশোধের কষ্টকর প্রক্রিয়ার মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত ? নাকি তাদের কে সুদ মুক্ত ঋণ দেয়া উচিত ? এই সুদ নামের সমস্যা সমাজের অর্থ-নৈতিক রোগের মধ্যে অন্যতম। কারণ, অর্থশালী লোক সুদের মাধ্যমে আরো অর্থশালী এবং দরিদ্রদের সুদ দেয়ার ফলে আরো দরিদ্র হয়। আর এভাবে সমাজে ধনী ও গরীবের মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ইসলাম সুদকে হারাম করেছে এবং মুসলমানদের মধ্যে সাম্য ও ভাতৃত্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলার জন্য তাদেরকে আল্লাহর পথে দান করতে উসাহ দেয়। যারা সুদ নেয়ার জন্য ঋণ দেয়, তারা তাদের সম্পদ বাড়ানোর জন্যই ঋণ দেয়। তাই আল্লাহ এ আয়াতে বলেছেন, আল্লাহর পথে দান খয়রাত ও মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং এমনকি তা সাতশত গুন বৃদ্ধি পায়। আর এভাবে তোমাদের সম্পদ তো বাড়ছেই, একই সাথে দানকৃত সম্পদ সমাজের প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র বিমোচনও ভূমিকা রাখছে। এ আয়াতের শিক্ষণীয় দিক ',
প্রথমত : আল্লাহর পথে ও গরীবদের সাহায্যের জন্য দান-খয়রাত পবিত্র নিয়তে ও হালল সম্পদ থেকে করতে হবে।আর এরকম দান-খয়রাতে কারো সম্পদের ক্ষতিতো হয়ই না, বরং এর ফলে ব্যক্তি ও সমাজের সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
দ্বিতীয়ত : আল্লাহর দয়ার কোন সীমা নেই। যে কেউ তার প্রচেষ্টা ও যোগ্যতা অনুযায়ী আল্লাহর রহমত লাভ করে। এবারে আমরা সুরা বাকারার ২৬১ ও ২৬৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব। এই দুই আয়াতের অর্থ হ', যারা আল্লাহর পথে নিজের ধনসম্পদ ব্যয় করে এবং যা ব্যয় করে, তার কোন প্রতিদান চায়না ও কষ্ট দেয় না, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার আছে এবং তাদের জন্য কোন আশঙ্কা নেই, এবং তারা দুঃখিত হবেনা। যে দানের ফলে মানুষকে কষ্ট দেয়া হয়, সেই দানের চেয়ে উত্তম ও কল্যাণকর কথা এবং ক্ষমা শ্রেয়। আল্লাহ মহাক্ষমাশালী ও সহনশীল এবং তিনি তোমাদের সম্পদের মুখাপেক্ষী নন। আগের আয়াতে মানুষকে আল্লাহর পথে দান-খয়রাতের জন্য উপদেশ দেয়া হয়েছে। এই আয়াতে দান-খয়রাতের সঠিক পদ্ধতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গরীবদের কিছু দান করতে চাও, তবে প্রতিদানের আশা করো না এবং দান করার পর তাদের কে খোচাঁনো বা মন্দ আচরণের মাধ্যমে কষ্ট দিওনা। কারণ, যে মানুষ গরীব কাউকে কিছু দান করে তা-তার নিজের সম্পদ ছিল না। তাই আল্লাহর সম্পদ দানের কারণে প্রতিদান আশা করা ঠিক নয়। বরং বঞ্চিত ব্যক্তি ধনীর দান গ্রহণ করে ধনীকে পরকালে সওয়ার অর্জনের সুযোগ করে দেয়ায় এর প্রতিদান আশা করতে পারে। আসলে আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করে মানুষের বাহবা বা প্রতিদান চাওয়া আল্লাহর পথে দান বলেই বিবেচিত হয়না। কেউ কারো উপকার করে দুঃখিত বা দুশ্চিন্তা গ্রস্থ হবেনা। কারণ, আল্লাহ দান-খয়রাতকারীর শুভ পরিনামের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এমনকি অর্থ সম্পদ দান না করে ও যারা গরীব দুঃখীদের প্রতি ভালো কথা ও সহৃদয় ব্যবহার করে থাকে আল্লাহ তাদের এ কাজকে দানের পর বঞ্চিতদের কষ্ট দেয়ার চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন। এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক ',
প্রথমত : আমরা কোন কাজ যদি আল্লাহর জন্য শুরূ করি তাহলে ঐ কাজের জন্য যেন অহংকার ও প্রতিদানের আশার মত ধ্বংসাতড়বক কোন কিছুর শিকার না হই, সেদিক লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, এসব বিষয় ঐসব ভালো কাজকে মূল্যহীন করে ফেলবে।
দ্বিতীয়ত : মুমিন ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করা তার শারীরিক ও বৈষয়িক চাহিদা মেটানোর চেয়ে বেশী ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোন মুমিন বা বিশ্বাসী ব্যক্তির সম্মান যাতে ক্ষুনড়ব না হয়, সে দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত। #

কোরআনের আলো
(
৬৯তম পর্ব )

সুপ্রিয় পাঠক ! কোরআনের আলো অনুষ্ঠানে আপনাদের সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
কোরআনের আলোর আজকের পর্বে সুরা বাকারার ২৬৪ নম্বর আয়াত থেকে ২৬৭ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করব। আসুন প্রথমে সুরা বাকারার ২৬৪ ও ২৬৫ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', হে বিশ্বাসীগণ, দানের কথা প্রচার করে ও কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির মত নিস্ফল করোনা, যে নিজের সম্পদ থেকে নিজেকে জাদির করা ও লোক দেখানোর জন্য দান করে থাকে এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করেনা। তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন শক্ত পাথরের মত, যার ওপর কিছু মাটি থাকে, কিন্তু প্রবল বৃষ্টিপাত তা পরিস্কার করে দেয় ফলে, কোন বীজ থেকেই আর গাছ উদগত হয় না এবং যা তারা উপার্জন করেছে,তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে পারেনা। আল্লাহ অবিশ্বাসী সম্প্রদায়কে সথে পরিচালিত করেন না। যারা আল্লাহর সন্তুটি লাভের জন্য ও নিজেদের আত্মার উন্নতির জন্য ধন সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা উচ্চ মিতে অবস্থিত উদ্যানের মত যাতে প্রবল বৃষ্টি হয়, ফলে তার ফল মূল দ্বিগুন জন্মে। যদি প্রবল বৃষ্টি না-ও হয়, তবে শিশিরই যথেষ্ট। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন। এই দুই আয়াতের আগের আয়াতে আল্লাহর পথে দান করার জন্য বিশ্বাসী বা মুমিনদের প্রতি উসাহ দেয়া হয়েছিল। আর
দুই আয়াতে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য দান ও অগ্রহণযোগ্য দানকে দু'টি উপমা দিয়ে বুঝানো হয়েছে। কপট দানশীল ব্যক্তির লোক দেখানো দানকে শক্ত পাথরের ওপর অল্প কিছু নরম মাটির সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর শক্ত পাথরে উদ্ভিদ জন্মেনা। তাই তার দানে অন্য মানুষের উপকার হলেও তার নিজের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলেনা এবং নিজে ঐ দানের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। আর যে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুটির উদ্দেশ্যে তথা মানুষের বাহবা পাবার আশা না করেই পবিত্র উদ্দেশ্যে দান করে তাঁর দান উচুঁ ভূমির উচ্চ ফলনশীল জমিতে বোনা বীজের মত। তাতে বৃষ্টি কম বা বেশী যা-ই হোক না কেন নীচু জমির চেয়ে অন্তত দুইগুন বেশী ফলন হয়। কারণ, এই জমি বৃষ্টির পানিকে খুব ভালভাবে ধরে রাখতে পারে এবং গাছের মূলও এ জমিতে সুদৃঢ়ভাবে বিকাশের সুযোগ পায়। এই দুই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো ',
প্রথমত : স উদ্দেশ্যে বা পবিত্র নিয়তে করা ভাল কাজেরই মূল্য রয়েছে। অস উদ্দেশ্য পূরণের জন্য করা ভালো কাজের কোন মূল্য নেই।
দ্বিতীয়ত : স উদ্দেশ্যে মানুষের সেবা ও মানুষের মধ্যে ভাল গুনাবলী জোরদার বা বিকাশের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি।
তৃতীয়ত : লোক দেখানো ভাল কাজ বিচার দিবস ও আল্লাহর প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস না থাকারই প্রমাণ।
এবারে সুরা বাকারার ২৬৬ নম্বর আয়াতের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ', তোমাদের মধ্যে কেউ কি এমনটি পছন্দ করবে যে তার খেজুর ও আঙ্গুরের একটি বাগান থাকবে, যার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদী এবং ঐ বাগানের সবধরনের ফল মূল থাকবে। আর সে ব্যক্তি যখন বার্ধক্যে উপনীত হবে, তখন তার সন্তান-সন্ততি দূর্বল থাকবে। এরপর অগিড়বপ্রবাহ বিশিষ্ট এক ঘূর্ণীঝড়ে সে বাগান পুড়ে যায়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যেন তোমরা চিন্তা কর। এই আয়াত ও একটি উপমা তুলে ধরেছে। কোন ব্যক্তি যখন লোক দেখানোর জন্য ভালো কাজ করে, কিন্তু এরপর অন্যকে কথা ও কাজে কষ্ট দেয় সে যেন নিজেই নিজের কাজের ফলকে নষ্ট করে। দরিদ্র ও বঞ্চিতদেরকে দান করা হ'ল মানব-সমাজের বাগানে গাছ লাগানোর মত। খুব কষ্টকর এই কাজের প্রতিদান ও ফল রয়েছে। কিন্তু যদি এই কাজে সাবধানতা অবলম্বন করা না হয়, এবং লোক দেখানোর মত সমস্যা এর সাথে যুক্ত হয় তাহলে এর কল্যাণ অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। পরিনামে দুর্ভোগ ও অনুতাপ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, একদিন মহানবী (সাঃ) মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বললেন, আল্লাহকে স্মরণ কর। প্রতিবার আল্লাহর জিকর বা আল্লাহর স্মরণের ফলে বেহেশতে তোমাদেরকে একটি গাছ দেয়া হবে। মুসলমানদের মধ্যে একজন বলল, তাহলে আমরা বেহেশতে অনেক বাগানের মালিক হ্ব। নবী (সাঃ) বললেন, অবশ্য যে মুখ দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ কর, তা দিয়েই গর্বীত বা পরচর্চার কারণে সমস্ত গাছ পুড়ে যায়। বিচার দিবস বা কিয়ামতের দিন মানুষ স কাজের মুখাপেক্ষী । আর এটা খুবই যে বেদনাদায়ক কপটতা লোক দেখানো ভালো কাজ এবং অন্যকে কষ্ট দেয়ার মত অপরাধগুলো মানুষের সমস্ত নেক আমল ধ্বংস করে দিয়েছে। এই আয়াতে শিক্ষণীয় দিক হ', ভালো কাজ করে সেজন্য অহংকার করতে নেই। কারণ অন্য কোন খারাপ কাজ ভাল কাজের ফল ধ্বংস করে দেয়। অনেক কষ্ট করে গাছ লাগানোর পর বাগানের গাছ বড় হয় এবং ফলবান হয়। কিন্তু আগুন এক মুহুর্তের মধ্যে বাগান পুড়ে ফেলে।
এবারে সুরা বাকারার ২৬৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করব। এই আয়াতের অর্থ হ', হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা যা উপার্জন কর ও যা আমি ভূমি থেকে উপাদন করি, তার মধ্যে যা উকৃষ্ট তা ব্যয় কর এবং তা থেকে এমন মন্দ বস্তু ব্যয়ের ইচ্ছা করনা, যা তোমরা চোখ বন্ধ করে বা একান্ত অনিচ্ছায় গ্রহণ কর। জেনে রেখো আল্লাহ তোমাদের সাহায্যের মুখাপেক্ষী নন। তিনি মহাসম্পদশালী ও প্রশংসিত। গরীব ও বঞ্চিতদেরকে কি দান করা উচিত এ নিয়ে মুসলমানরা রাসুল (সাঃ) কে প্রায়ই প্রশ্ন করতো। এই আয়াতে একটি সামগ্রীক নিয়ম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পবিত্র ও ভালো বা উকৃষ্ট সম্পদ থেকে দান কর। আয়-উপার্জন বা ব্যবসা থেকে যে টাকা বা সম্পদ অর্জিত হয়, কিংবা ক্ষেত খামার থেকে যে খাদ্য ফসল উপনড়ব হয়, তা থেকে দান করা উচিত। যেসব খাবার বা পোশাক পূরনো বা মূল্যহীন হয়ে গেছে, সে সব অন্যদের দান করা উচিত নয়। মদীনার কোন কোন মানুষ শুকনো ও অনুনড়বত খেজুর ফকিরদের দান করে উন্নত খেজুর নিজেদের প্রতি তিরস্কার করে এ আয়াতে বলা হয়েছে, যা ফকিরদের দিলে তা যদি তোমাদেরকেই দেয়া হ', তাহলে কি তোমরা সে সব গ্রহণ করতে ? এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিক হ',
প্রথমত : দান খয়রাতের ক্ষেত্রেও গরীবদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা উচিত। মূল্যহীন ও আজে বাজে জিনিষ দান করার অর্থ 'ল অন্যদের অসম্মান করা।
দ্বিতীয়ত : দানের উদ্দেশ্য হ'ল কৃপনতা থেকে মুক্তি অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ জিনিষ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া নয়।
তৃতীয়ত : মানুষের বিবেক অন্যদের সাথে আচরণে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মানদন্ড। যা আমরা ভালবাসিনা, তা যেন অন্যদের দান না করি। #



back 1 2 3 next