সূরা আলে ইমরান ১-৭

রেডিও তেহরান


সূরা আলে ইমরান; আয়াত ১-৭ (পর্ব ১)

 

সূরা আলে ইমরানে মোট ২০০ আয়াত রয়েছে। এসব আয়াত মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। আলে ইমরান অর্থ ইমরানের বংশধর'এই সূরার ৩৩ নম্বর আয়াত অনুসারে সূরাটির নামকরণ করা হয়েছে আলে ইমরান। হযরত মুসা (আঃ) ও হযরত মরিয়ম (আঃ) উভয়ের পিতার নাম ইমরান। তাই ইমরানের বংশধর বলতে হযরত মুসা (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ)' বংশধরকে বোঝানো হয়েছে। অবশ্য এই সূরায় শুধু হযরত মরিয়মের জন্ম,তাঁর ইবাদত এবং তাঁর সন্তান ঈসা (আঃ)'র জন্মের ঘটনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ইমরানের বংশধররা আল্লাহর বিশেষ রহমতপ্রাপ্ত বংশ হিসেবে সুপরিচিত।

এই সূরার প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে,

الم (1) اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ (2)

"আলিফ-লাম-মীম।" (৩:১)
"
আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী বা সর্বদা বিরাজমান।" (৩:২)

'আলিফ-লাম-মীম' সম্পর্কে সূরা বাকারাহ'র প্রথমে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছিলাম কোরআনের ২৮টি সূরার আগে এ ধরনের অক্ষর রয়েছে এবং এসব অক্ষরের প্রকৃত রহস্য আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-ই ভালো জানেন। কোরআনের এসব বিচ্ছিন্ন অক্ষরের মাধ্যমে সম্ভবত এটাই বোঝানো হয়েছে যে, আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন কোরআন সবার পরিচিত বর্ণমালা দিয়েই লেখা হয়েছে। তাই কারো সাধ্য থাকলে সে যেন এসব বর্ণমালা দিয়েই কোরআনের মত অলৌকিক গ্রন্থ রচনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে, কিন্তু এমন সাধ্য কারো নেই। এরপর দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহর কিছু গুণাবলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ সমস্ত পূর্ণতার অধিকারী এবং তিনি সমস্ত দোষ ও অপূর্ণতা থেকে মুক্ত। আল্লাহ শুধু সত্ত্বাগতভাবে নন, গুণাবলীর দিক থেকেও তিনি অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়। আমাদের জ্ঞান ও শক্তি সীমিত। আল্লাহর সত্ত্বা অসীম ও স্থায়ী। আমরা অতীতে ছিলাম না এবং ভবিষ্যতেও থাকব না। কিন্তু আল্লাহ সব সময়ই ছিলেন,এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাই একমাত্র তিনিই প্রশংসা পাবার ও উপাস্য হবার যোগ্য। আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু বা অন্য কেউই উপাস্য বা প্রভু হবার যোগ্য নয়।

এ আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হল, কারো ক্ষমতা, সম্পদ ও পদের কারণে তার সামনে নত না হয়ে একমাত্র আল্লাহর বন্দেগী বা উপাসনা করা উচিত। কারণ, অন্যদের যতই ক্ষমতা ও সম্পদ থাকুক না কেন তা আল্লাহরই দান। আর আল্লাহ সব ধরণের দোষ, ত্রুটি এবং অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

এরপর এই সূরার ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ (3) مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ الْفُرْقَانَ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآَيَاتِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ (4)

"
তিনি ( আল্লাহ ) সত্যসহ তোমার প্রতি গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন যা এর পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যায়নকারী।" (৩:৩)
"
তিনি এর আগে মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্য তওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছিলেন এবং তিনিই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্যকারী ফোরকান বা কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। নিশ্চয়ই, যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অবিশ্বাস করে তাদের জন্য কঠোর শাস্তি আছে। আল্লাহ অতুলনীয় মহাপরাক্রমশালী এবং দণ্ডবিধায়ক।" (৩:৪)

রাসুল (সঃ)-র যুগে ঐশীগ্রন্থের কোন কোন অনুসারী তওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ হবার পর অন্য আরেকটি গ্রন্থ অবতীর্ণ হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করত। তারা ইসলামের নবী ও কোরআনের প্রতি ঈমান আনতে রাজী ছিল না। এই আয়াতে তাদের আপত্তির জবাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ বিভিন্ন যুগে মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য অনেক নবী মনোনীত করেছেন এবং নবীদের মধ্যে কারো কারো কাছে গ্রন্থ ও নতুন বিধান বা শরীয়ত দিয়েছেন। এই সব নবী ও ঐশী গ্রন্থ একে অপরের সত্যতার স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ সমস্ত নবী ও ঐশী গ্রন্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে এবং এসবই সত্য ও যথার্থ । আর এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। যে আল্লাহ, মুসা ও ঈসা (আঃ)'র কাছে যথাক্রমে তওরাত ও ইঞ্জিল নাজেল করেছেন, তিনিই মুহাম্মদ (সাঃ)'র কাছে কোরআন নাজেল করেছেন। তাই কেউ যদি সত্যের অনুসারী হয়, তাহলে তাদেরকে পবিত্র কোরআনের প্রতিও ঈমান আনতে হবে। যদি কেউ কোরআনকে সত্য বলে বিশ্বাস না করে, তাহলে সে দুনিয়া ও পরকালে আল্লাহর শাস্তির মুখোমুখী হবে এবং এই শাস্তি থেকে বাঁচার কোন পথ নেই।



1 2 next