তাফসীর বিষয়ক অনুষ্ঠান-১

রেডিও তেহরান



১৯তম পর্ব

কোরআনের আলোর আজকের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ৩৮ ও ৩৯ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবসূরা বাকারার ৩৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"আমি বললাম তোমরা এখান থেকে নীচে নেমে যাওপরে যখন আমার কাছ থেকে তোমাদের কাছে পথ নির্দেশনা আসবে তখন যারা আমার উপদেশ অনুসরণ করবে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবেনা।"
আল্লাহর কাছে হযরত আদম(আঃ)এর তওবা কবুল হওয়ার পর নির্দেশ এলো নীচে নেমে যাও, যাতে এ রকম বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয় যে তওবা কবুল হওয়ার ফলে তিনি পুনরায় বেহেশতে ফিরে আসবেন আল্লাহর ক্ষমার ফলে শাস্তি লাঘব হয় কিন্তু গুনার ফলে যে প্রভাব পড়ে তার অবসান হয়না নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার স্বাভাবিক পরিণতি ছিল হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার বেহেশত থেকে বহি
®কৃত হওয়াতওবার ফলে এই স্বাভাবিক প্রভাব দূর হয়নিতাই হযরত আদম(আঃ) ও বিবি হাওয়া বেহেশত থেকে বেরিয়ে আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীর সুযোগ সুবিধাবিহীন একটি স্থানে বসবাস করতে লাগলেনবেহেশত থেকে হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার বেরিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের সন্তানেরাও বেহেশতের বাইরে পৃথিবীতে বসবাস করবে বলে ঠিক হয়তবে একই সাথে উল্লেখ করা হয় মানবজাতির পথ নির্দেশনার বিষয়টিআল্লাহপাক বলেন আমি তোমাদের জন্য সঠিক পথে চলার উপকরণ পাঠাবোপথপ্রদর্শনের জন্য কিতাব এবং রাসূল প্রেরণের অঙ্গীকার করেন কিন্তু মানুষ দুটি দলে বিভক্তএকদল আল্লাহর আদেশ নিষেধ অনুসরণ করে এবং অপর দল হলো অবিশ্বাসী ও কাফেরআল্লাহপাক সৃষ্টির শুরুতেই তাবত দুনিয়ার সকল সত্তা, সৃষ্টি ও সব কিছুর নাম হযরত আদমকে শিখিয়ে দেনতার সত্তায় সপে দেন জ্ঞান অর্জনের অফুরন্ত ক্ষমতাআর এই জ্ঞানই হলো ফেরেশতাদের উপর তার মর্যাদার মূল কারণকিন্তু উপলদ্ধি ক্ষমতা ও বিচার-বুদ্ধি তাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করতে পারেনিতাই সেই শুরুতেই হযরত আদম(আঃ) ধোকা খেলেন এবং পড়ে গেলেন বিভ্রান্তিতেতাই আল্লাহপাক হযরত আদম(আঃ)এর তওবা কবুল করে তাকে পৃথিবীতে পাঠানোর পর তার জন্য পথনির্দেশনার ব্যবস্থা করলেনযাতে তিনি সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে পারেন, চিনতে পারেন ভালো-মন্দ এবং ভুল পথে পা না বাড়ানআল্লাহপাক মানব জাতিকে বিচার-বুদ্ধি বা আকল দেয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় যে মহান নেয়ামত দিয়েছেন তাহলো অহীনবীদের মাধ্যমে অহী নাজিল এবং মানুষের পথ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা আল্লাহর জন্য অবশ্যকীয় বিষয় তবে হেদায়েত লাভ করা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছার অধীনমানুষ চাইলে সঠিক পথের অধিকারী হবে আর না চাইলে আল্লাহ তাকে জোর করে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন নামানুষ তার পথ নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর কোন জোর জবরদস্তি নেইমানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ও উ
কণ্ঠা হলো তার ভবিষ্য নিয়েমানুষ নিজে অতীত জীবনের দিকে তাকালে হতাশ হয়ে পড়েসুযোগ ও সম্ভাবনা কাজে না লাগানোর বেদনায় সে মুষড়ে পড়েতাই নিজের অজান্তেই ভবিষ্য নিয়ে তার মধ্যে বারবার আশঙ্কার জন্ম হয়তবে যে আল্লাহর পথনির্দেশনা অনুযায়ী চলবে আল্লাহ নিজেই তার ভবিষ্য নিশ্চিত করবেনতখন তার মধ্যে থাকবে না কোন উদ্বেগ, কোন শঙ্কা, অতীত নিয়ে সে যেমন বেদনায় ভোগে সেরকম বেদনায় সে ভুগবে নাকারণ সে তার দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছেতার কাজের ফলাফল এখন পাওয়া না গেলেও তা কি রকম হবে সে ব্যাপারে সে নিশ্চিত এবং আশাবাদী
সূরা বাকারার ৩৮ নম্বর আয়াতের কয়েটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-

প্রথমত: কখনো একটি ভুলের জন্য গোটা জাতিকে এর ফল ভোগ করতে হয় হযরত আদম(আঃ) কেবল একটি ভুল করেছিলেন কিন্তু ঐ একটি ভুলের ফলে তিনি ও তার ভবিষ্য বংশধর বেহেশত থেকে বহি®কৃত হয়

দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তার অপার দয়া ও রহমত থেকে কখনোই মানুষকে বঞ্চিত করেন নাহযরত আদম(আঃ)এর অবাধ্যতা সত্ত্বেও আল্লাহপাক তাকে তওবার পথ দেখিয়ে দিলেন এবং হেদায়েতের উপকরণও তাকে দিলেন

তৃতীয়ত: মানুষ পৃথিবীতে বসবাস শুরু করার সাথে সাথেই আল্লাহর পথনির্দেশনা আরম্ভ হয়আর প্রকৃত পথ নির্দেশনার মালিক একমাত্র আল্লাহ

চতুর্থত: মানুষের একটি বৈশিষ্ট্য হলো সে নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাধীনআল্লাহর দেয়া দিক নির্দেশনা মেনে চলতে সে বাধ্য নয়তাই মানব জাতির একটি অংশ মুমিন এবং অপর অংশ কাফের হয়ে যায়
পঞ্চমত:হেদায়েত লাভকারী ব্যক্তি প্রকৃত শান্তিতে বসবাস করেনতার মধ্যে থাকেনা কোন উদ্বেগ, থাকেনা কোন উ
কণ্ঠা

এবারে সূরা বাকারার ৩৯ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলা হয়েছে, "যারা অবিশ্বাস করে ও আমার নিদর্শন সমূহকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে তারা দোজখের অধিবাসী সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।"

এদের বিপরীতে যারা স্বেচ্ছায় আল্লাহর দিক-নির্দেশনা মেনে নেয় তারা অবশেষে সৌভাগ্যের অধিকারী হবেএ আয়াতে যেমনটি বলা হয়েছে সমাজে একদল লোক আছে যারা অবিশ্বাস ও বিদ্বেষের কারণে আল্লাহর নিদর্শন উপেক্ষা করে এবং সেগুলোকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেসঠিক পথে চলার জন্য আল্লাহ যে উপকরণ দিয়েছেন, সেগুলো তার স্পষ্ট নিদর্শনতবে কেউ যদি আবিশ্বাস আর সত্যকে ঢাকা দেয়ার মন মানসিকতা নিয়ে আল্লাহর নিদর্শনাবলীর দিকে তাকায়, তাহলে ঐ নিদর্শনগুলো মেনে নেয়াতো দূরের কথা সেগুলোর সত্যতাও অস্বীকার করবেআখ্যায়িত করবে সেগুলোকে মিথ্যা হিসাবেপরকালে এধরণের লোকদের স্থান হলো দোজখের আগুনকারণ বিদ্বেষ ও একগুয়েমী তাদের চিরাচরিত স্বভাব এবং তাদের এ স্বভাব পরিবর্তন হবে নাতাই দোজখ হবে তাদের চিরকালীন আবাসস্থল


সূরা বাকারার ৩৯ নম্বর আয়াতের শিক্ষণীয় দিকটি হচ্ছে, আল্লাহপাক কাফেরদের জন্যও হেদায়েতের উপকরণ দিয়েছেনকিন্তু তারা নিজেরাই সঠিক পথে চলতে চায় নাএভাবে তারা নিজ হাতে দোজখের আগুন ক্রয় করেছে


২০তম পর্ব

কোরআনের আলোর আজকের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ৪০,৪১,৪২ ও ৪৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবসূরা বাকারার ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"হে বনী ইসরাইল, আমি তোমাদের যে সুখ ও সম্পদ দান করেছি তা স্বরণ কর এবং আমার অঙ্গীকার পূরণ করআমিও তোমাদের অঙ্গীকার পূরণ করবআর তোমরা শুধু আমাকেই ভয় করআল্লাহকে দেয়া অঙ্গীকার ভুলে যাওয়ায় হযরত আদম(আঃ)এর বেহেশত থেকে বহি®কৃত হওয়া এবং পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব লাভ সম্পর্কে কাহিনী বর্ণনার পর, এই আয়াতে আল্লাহপাক আরেকটি কাহিনীর বর্ণনা দেনহযরত আদম(আঃ)এরই সন্তান অর্থা বনী ইসরাইল গোত্র কি পরিণতির শিকার হয়েছিলো সেকথাই এখানে বলা হয়েছেহযরত ইয়াকুব (আঃ)এর অপর নাম ছিলো ইসরাইলবনী ইসরাইল বলতে তারই সন্তান-সন্ততি ও বংশধরদের বুঝানো হচ্ছেইতিহাসে এই গোত্রের রয়েছে দীর্ঘ চড়াই-উরাইয়ের কাহিনীকোরআনের বহু আয়াতে এই গোত্রের কাহিনী বলা হয়েছেএই আয়াতে তিনটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা আল্লাহ প্রদত্ত সকল কর্মসূচীর উপ্রথমত: আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের কথা স্বরণ করতে হবেএতে মানুষের মধ্যে শোকর আদায়ের অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও তার আনুগত্যের স্পৃহা জেগে ওঠেদ্বিতীয়ত: আল্লাহর দেয়া নেয়ামত ও সুখ-সম্পদ শর্তহীনভাবে দেয়া হয়নিএকই সাথে আল্লাহ মানুষের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেনতাই মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব আছেসে যদি আল্লাহ নির্দেশিত পথে চলে তাহলে আল্লাহর দেয়া দয়া ও অনুগ্রহ থেকে পুরোপুরি লাভবান হতে পারবেএই আয়াতের তৃতীয় নির্দেশ হলো আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন শক্তিকে ভয় পেলে চলবে নাশত্রুদের হুমকী ও প্রচারণা যাতে মানুষের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলতে না ফেলে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
এবারে সূরা বাকারার ৪১ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলা হয়েছে-"তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক হিসাবে আমি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে ঈমান আনোআর তোমরাই এর প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়োনা এবং আমার আয়াতকে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করো নাতোমরা শুধু আমাকেই ভয় করবে।"
এই আয়াতে ইহুদী পন্ডিতদের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তোমরা তওরাতের সুসংবাদ অনুযায়ী ইসলামের নবীর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলেএখন তার গ্রন্থ কোরআন যা কিনা তোমাদের তওরাতের সাথে সংগতিপূর্ণ তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করোনিজেদের অবস্থান জানার জন্য তওরাতের যেসব বাণীতে ইসলামের নবীর বিভিন্ন নিদর্শন উল্লেখ করা হয়েছে তা গোপন করোনা এবং পার্থিব সম্পদের বিনিময়ে ধর্মকে বিক্রি করোনাকিংবা কোরআনকে তোমরা প্রথম অবিশ্বাস করোনাতাহলে অন্য ইহুদীরা তোমাদের অনুসরণে ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাবেমুসলিম ব্যক্তি সকল আসমানী গ্রন্থ ও পূর্ববর্তী নবীদের প্রতি বিশ্বাস রাখে কিন্তু ইসলাম ধর্ম হলো সর্বশেষ ধর্মএর আগের সব ঐশী গ্রন্থ বিকৃতির শিকার হয়েছে তাই একজন মুসলমান শুধু মাত্র ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ)এর অনুসারীএজন্যে কোরআন পূর্ববর্তী ধর্মের অনুসারীদেরকে কোরআনের প্রতি ঈমান আনতে বলেএকই সাথে একথাও বলে যে, কোরআনের বিষয়বস্তু পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণপার্থক্য হলো পবিত্র কোরআন বিকৃতির উর্দ্ধেমহাগ্রন্থ কোরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে নয় বরং শুধু আল্লাহর নির্দেশের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে
এবারে সূরা বাকারার ৪২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলা হয়েছে,"তোমরা সত্যকে মিথ্যা দিয়ে আড়াল করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।"
পন্ডিত ব্যক্তিদের যে বিষয়টি তাদের জাতি ও ধর্মকে হুমকীগ্রস্ত করে তাহলো সত্য গোপন করা কিংবা নিজেদের খেয়াল খুশী মত সত্য ও মিথ্যা বর্ণনা দেয়াএর ফলে জনগণ অজ্ঞতা, মূর্খতা কিংবা বিভ্রান্তি ও সংশয়ের মধ্যে পড়েএকটি জাতির পন্ডিত ও শীর্ষ ব্যক্তিরা যেসব অপরাধ করে তার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হলো এটিআমিরুল মুমিনিন হযরত আলী(আঃ) নাহজুল বালাগা গ্রন্থের ৪৯ নম্বর বাক্যে এ সম্পর্কে বলেন, মিথ্যা যদি সরাসরি বর্ণনা করা হয়, তাহলে ভয়ের কিছু নেইকারণ মানুষ ঐ বিষয়টি যে ভুল তা বুঝতে পারবে এবং নিজেরাই সেটি বর্জন করবেআর যদি সত্য সরাসরি এবং অবিকৃতভাবে বর্ণনা করা হয়, তাহলে বিরোধীদের মুখ বন্ধ হয়ে যাবে এবং জনগণও তা মেনে নেবেবিপদ ঘটে তখনই যখন সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে বর্ণনা করা হয়ঐ অবস্থায় শয়তান সহজেই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে
এবারে সূরা বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলা হয়েছে,"তোমরা নামাজ কায়েম কর, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করশুধু সত্যকে চেনা ও জানাই যথেষ্ট নয়বরং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ব্যক্তিকে কাজের লোক হতে হবে আর সর্বোত্তম কাজ হলো আল্লাহর এবাদত এবং তার সৃষ্টির সেবা করা।"

কোরআনের অধিকাংশ আয়াতে নামাজ ও জাকাতের বিষয়টি পাশাপাশি এসেছেএর অর্থ হলো নামাজ ও এবাদতের পাশাপাশি একজন মুসলমানকে মানুষের প্রতি সেবা ও দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবেএমনকি নামাজ পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনায় জনগণের মধ্যে উপস্থিত হওয়ার উপর জোর দেয়া হয়েছেবলা হয়েছে জামাতে নামাজ পড়বে এবং অন্যান্য মুসলমানদের সাথে রুকু ও সেজদা করবেএর কারণ হলো সমাজে নিঃস্বঙ্গ জীবন-যাপনকে ইসলাম অনুমোদন করে না সূরা বাকারার ৪০, ৪১,৪২ ও ৪৩ নম্বর আয়াতের কয়েকটি প্রধান শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে-
প্রথমত: আল্লাহপাক আমাদের পরিবার ও সমাজকে যে সব নেয়ামত দিয়েছেন সেগুলো সব সময় স্মরণ করতে হবেআল্লাহর নেয়ামতের কথা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে, যাতে আল্লাহর শোকর আদায় এবং তাকে অনুসরণ ও ভালোবাসার স্পৃহা জন্ম নেয়


দ্বিতীয়ত: দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহপাক আমাদের ফিতরাত বা প্রকৃতি কিংবা ঐশী বিধানের মাধ্যমে আমাদের যে অঙ্গীকার নিয়েছেন সেই অঙ্গীকার আমাদের মেনে চলতে হবেআর মনে রাখতে হবে আল্লাহর বিশেষ দয়া পেতে হলে তার নির্দেশিত পথে চলতে হবে

তৃতীয়ত: আল্লাহর বিধান মেনে চলার ক্ষেত্রে কোন শক্তিকে ভয় পাওয়া চলবে নাএ ছাড়াও শ্রেফ ধন-সম্পদ ও নিজেদের মর্যাদার জন্য আল্লাহর বাণী প্রত্যাখ্যানকারীদের মধ্যে যাতে অগ্রীম না হই সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
চতুর্থত: মানুষের প্রত্যেক অঙ্গ বিশেষ কিছু পাপ করার ক্ষমতা রাখে জিভের একটি প্রধান পাপকাজ হলো জেনে শুনে সত্য বলা থেকে বিরত থাকাঈমান আমল থেকে পৃথক কিছু নয়সকল ঐশী ধর্মের প্রথম নির্দেশ হলো নামাজ
ষষ্ঠত: নামাজ মূলত: জামাতে পড়া উচিতএটি মুসলমানদের একটি ধর্মীয় দায়িত্ব

 

 



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21