আলোকের উন্মেষণ-২

রেডিও তেহরান

আলোকের উন্মেষণ-২

পাশ্চাত্যে রেনেসাঁর আগ পর্যন্ত অন্য একদল দার্শনিক আদর্শ রাষ্ট্র বা সুশীল সমাজ সম্পর্কে কথা বলেছেন৷ চতুর্থ ও পঞ্চম শতকে খৃষ্টান পাদ্রী সেন্ট অগাস্টিন "স্রষ্টার বা আল্লাহর রাষ্ট্রশীর্ষক গ্রন্থে ভবিষ্যত বিশ্ব সম্পর্কে কথা বলেছেন ৷ অগাস্টিনের মতে মানুষ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত৷ এক শ্রেণীর মানুষ নির্বাচিত বা মনোনীত এবং অন্য শ্রেণীর মানুষ অভিশপ্ত৷ এ দুই গ্রুপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আল্লাহর বা বেহেশতী রাষ্ট্র ও মাটির বা মর্তের শহর নামক দুটি শব্দ ব্যবহার করেছেন৷ মাটির বা মর্তের শহরে বস্তুবাদী বা ভোগবাদী জীবনই মূল বিষয়৷ তাই এ রাষ্ট্র বা শহরের অধিবাসীরা স্বার্থপর ও অহংকারী হয়ে থাকে৷ অন্যদিকে আল্লাহর রাষ্ট্র তথা বেহেশতী বা স্বর্গীয় রাষ্ট্রের লোকেরা স্রষ্টা বা আল্লাহকেই সবকিছুর মূল বা প্রধান বিষয় বলে মনে করেন এবং এ রাষ্ট্রে আধ্যাত্মিকতা বিরাজ করে৷ সেন্ট অগাস্টিন বলেছেন, সেদিন বেশী দূরে নয় যেদিন ভাগ্যলিপি এ দুই রাষ্ট্র অর্থাৎ আল্লাহর রাষ্ট্র ও মাটির রাষ্ট্রকে পরস্পর থেকে পৃথক করবে এবং আল্লাহর রাষ্ট্র ও সেখানকার নাগরিকরা মহান আল্লাহর দয়া পেয়ে সৌভাগ্যবান হবে৷  

সেন্ট অগাস্টিন তার কথিত আল্লাহর রাষ্ট্রেসব কিছুকে ভাগ্যের ওপর ন্যস্ত করেছেন৷ এ বিষয়টি তার আদর্শ রাষ্ট্রের একটি দূর্বল দিক৷ কারণ, এ বিষয়টি মানুষকে তার দায়িত্ব ও ইচছার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করে৷ সেন্ট অগাস্টিনের কথিত স্রষ্টার রাষ্ট্রেজ্ঞান ও প্রজ্ঞার কোনো গুরুত্ব নেই৷ তার মতে মহান স্রষ্টার পবিত্র গ্রন্থের অর্থ বোঝার মত জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট৷

ইউরোপে যখন গীর্যার শাসন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে তখন অর্থাৎ হিজরী চতুর্থ শতকে মুসলিম  চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ফারাবী তাঁর আলোকিত বাণী তুলে ধরেন৷ ফারাবীর মতে জ্ঞানী বা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রে সবাই সৌভাগ্য ও কল্যাণ অর্জনের জন্যে পরস্পরকে সহযোগীতা করেন ৷ ফারাবীর প্রস্তাবিত সুশীল সমাজ শুধু বিবেক বা প্রজ্ঞাকেন্দ্রীক৷ তাঁর মতে সুশীল সমাজের নেতাতে একজন গুণী বা বিজ্ঞ ও একইসাথে দার্শনিক হতে হবে এবং তাঁর মধ্যে বিবেক বা প্রজ্ঞার আলো থাকবে ৷ আর এতোটুকুই যথেষ্ট ৷ তাঁর মতে মূলতঃ দার্শনিকদের স্থানই হলো সুশীল সমাজ বা জ্ঞানীদের রাষ্ট্র৷ ফারাবী বলেছেন, সুশীল সমাজে যদি দার্শনিক না থাকেন তাহলে দার্শনিকদের উচিত সেখানে হিযরত করা ৷ তাঁর মতে সুশীল সমাজ বা জ্ঞানীদের রাষ্ট্র গড়ে উঠবে একজন নেতার মাধ্যমে এবং তিনি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান নেতা ও এ ধরনের ব্যক্তি হলেন সমাজের প্রধান ব্যক্তিত্ব ৷

খৃষ্টীয়  প্রায় ১৫০০ শতকের পর থেকে  পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদদের মধ্যে নতুন ধারণার উদ্ভব ঘটে৷ তাদের এ নতুন ধারণায় মানুষের অবস্থান বা মর্যাদা পরিবর্তিত হয়৷ ফলে মানুষের জন্যে তারা অন্য ধরনের বিশ্বের কথা ভেবেছেন৷ শুরু হয় ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়৷ এ সময়ে অর্থাৎ খৃষ্টীয় ১৬০০ শতকের শুরুতে এমন এক দল মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা জ্ঞান সম্পর্কে অতীতের চিন্তাবিদদের ধারণার সাথে একমত ছিলেন না৷ এই নতুন প্রজন্ম বিশ্বে পরিবর্তন আনার পদক্ষেপ নেয় এবং বিশ্বের ওপর নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার বা মাধ্যমগুলো অর্জন করেন৷ এর ফলে দার্শনিকদের চিন্তাধারায়ও নতুন রং লেগেছে৷                                       

চাতকের মতো পানির তৃষায় এ মনে তোমায় রাখবো

চাঁদের ৱিগ্ধ হাসির মতো তোমায় ভালবাসবো৷

হে মাহদী!  হে পরিপূর্ণ আলো! আসবে তুমি কবে?

কবে মজলুমের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটবে?

তোমার আবির্ভাবের রাঙ্গা প্রভাতের প্রতীক্ষায় মোরা থাকবো



1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 next