সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

প্রথমতঃ যদি কোন মসজিদ বা ইবাদত কেন্দ্র অজ্ঞ লোকদের সংস্কারে দুষিত হয়ে পড়ে, তবে ঐ কেন্দ্র ছেড়ে না দিয়ে সেখানে উপস্থিত থেকেই তাকে পবিত্র করতে হবে এবং প্রকৃত ইবাদতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে

দ্বিতীয়তঃ সাফা ও মারওয়ার মত আল্লাহর রহমত, শক্তি ও খোদায়ী মোজেযার নিদর্শনগুলোকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে, যাতে পবিত্র মানুষদের প্রচেষ্টাগুলো মানুষের অন্তর ও হৃদয়ে জীবন্ত থাকে।

তৃতীয়তঃ বাস্তবতা বা সত্য গোপন করা এমন পাপ যে সত্য গোপনকারীর বিবেকও তাকে অভিশাপ দিচ্ছে ও তিরস্কৃত করছে। কারণ আল্লাহ সকল মানুষের প্রকৃতিতে সত্য অনুসন্ধানের চেতনা দিয়েছেন।

চতুর্থতঃ আল্লাহ একদিকে বিভ্রান্তদেরকে সুপথে ফিরে আসার ও তওবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবং অন্যদিকে তওবা কবুলের ওয়াদা দিয়ে নিজেকে তওবা গ্রহণকারী বলে উল্লেখ করেছেন। #

কোরআনের আলো

( ৪৬ তম পর্ব )

কোরআনের আলোর এবারের পর্বে সূরা বাকারার ১৬৩ থেকে ১৬৬ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা আলোচনা করা যাক। ১৬৩ ও ১৬৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "তোমাদের উপাস্য একমাত্র আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন প্রভু বা ইলাহ নেই। তিনি পরম দয়ালু ও দয়াময়। আকাশমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টিতে, দিন ও রাতের পরিবর্তনে, আর মানুষের উপকারের জন্য যেসব তরী সাগরে ভেসে বেড়ায় সেসবে আর আকাশ থেকে আল্লাহ যে বারিধারা বর্ষণ করেন-তাই দিয়ে মৃত মাটিকে বাঁচিয়ে তোলেন এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীব-জন্তুর বিস্তরণে,বাতাসের গতির পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে জমে থাকা মেঘের সঞ্চারণে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।"

আল্লাহর একত্বের বড় প্রমাণ হলো, প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয়। মাটি, মেঘ, বৃষ্টি ও বাতাস, প্রাণ, প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা একদিকে যেমন বিশ্বের সৃষ্টিকর্তার একত্বের প্রমাণ, তেমনি অন্যদিকে তা আল্লাহর অসীম জ্ঞান ও শক্তির নিদর্শন। বলা যায় বিশ্বজগত এক অপূর্ব সুন্দর বিরাট কবিতা। এর মধ্যে রয়েছে অনেক পংক্তি ও চরণ। কিন্তু সবই একই ছন্দের ও একই অন্তর্মিলযুক্ত। আর এতে বোঝা যায়-মাত্র একজন রুচিশীল কবিই তা রচনা করেছেন। আল্লাহর একত্বের ওপর জোর দিতে গিয়ে এই আয়াতে আল্লাহর ছ'টি বড় নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমতঃ আকাশমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি-তা একটি মাত্র সৌর জগতের অধীন। আর এই সৌর জগত হাজারো সৌর জগত নিয়ে গঠিত একটি ছায়াপথের অংশ মাত্র।

দ্বিতীয়তঃ পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, যার ফলে দিন ও রাত এবং বছরে বিভিন্ন ঋতুর বৈচিত্র সৃষ্টি হচ্ছে।



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next