সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

মহান আল্লাহ পূর্ববর্তী আয়াতে কেবলার পরিবর্তনের অন্যতম যুক্তি হিসেবে মুসলমানদেরকে আল্লাহর নেয়ামত পূর্ণভাবে দান করা ও তাদেরকে পথ প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন। আর এই আয়াতে বলা হয়েছে-মহান আল্লাহ মুসলমানদেরকে আরও অনেক বড় নেয়ামত উপহার দিয়েছেন। আর সেসবের মধ্যে সবচেয়ে গরুত্বপূর্ণ নেয়ামত হলো নবীকে পাঠানো। এই নবী (সাঃ) ছিলেন জনগণের শিক্ষক। তিনি মানুষকে আল্লাহর আয়াত ও বিধান শিক্ষা দিতেন এবং একজন আন্তরিক প্রশিক্ষক হিসেবে মানুষের সংশোধন ও উন্নয়নের চিন্তা করতেন। আল্লাহর বাণীর তেলাওয়াত মানুষের আত্মাকে সংশোধনের ও তা পবিত্র করার ত্রে তৈরী করে। আর এরই পরবর্তী ধাপে মানুষকে আইন বা বিধি-বিধান বিশুদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গী, প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়া ছিল মানুষকে মুক্তির পথ দেখানোর জন্য নবী (সাঃ)এর প থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। নবীরা নৈতিকতা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রেই মানুষের পরিচালক ছিলেন না, একই সাথে সমাজের চিন্তা ও জ্ঞানের বিকাশেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। অবশ্য ঈমান ও বিশ্বাসের ছায়াতেই তারা জ্ঞান প্রচার করতেন-এর বাইরে আলাদাভাবে নয়।

এবারে সূরা বাকারার ১৫২ নম্বর আয়াতের অর্থসহ ব্যাখ্যা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, "অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো, তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং আল্লাহর বিরুদ্ধাচারী হয়ো না।"

আল্লাহ আমাদেরকে এতসব বড় বড় নেয়ামত দান করায় আমাদের বিবেক এটাই বলে যে, আমরা এসব নেয়ামতকে গুরুত্ব দিব এবং এই নেয়ামতকে ধরে রাখবো। আর যা কিছু আছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া নেয়ামতগুলোকে তিনি যেভাবে ব্যবহার করলে সন্তষ্ট হন সেভাবেই ব্যবহার করবো। যদি মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়-তাহলে সে সমস্ত কল্যাণ ও সৎ বিষয়াদি ভুলে যায় এবং আল্লাহও তাকে ভুলে গিয়ে তাকে নিজের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। আল্লাহকে স্মরণ করা বলতে শুধু মুখে মুখে স্মরণ করা বোঝায় না বরং আন্তরিক চিত্তে বাস্তবে তাকে স্মরণ করা বোঝায় । মানুষ যখন পাপে লিপ্ত হবার উপক্রম হয়, তখন সে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তা থেকে দূরে থাকে। অনুরূপভাবে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাপ্রকাশ বলতে শুধু মুখে মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে বোঝায় নাআল্লাহর প্রতি বাস্তবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হলে আল্লাহর সমস্ত নেয়ামতকে যথাযথ ক্ষেত্রে এবং যে লক্ষ্যে ঐসব নেয়ামত দেয়া হয়েছে ঠিক সে লক্ষ্যেই ব্যবহার করতে হবে।

এবারে সূরা বাকারার ১৪৮ থেকে ১৫২ নম্বর আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো তুলে ধরছি।

প্রথমতঃ বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মধ্যে মত বিরোধ নিয়ে বিতর্ক করার পরিবর্তে ইতিবাচক বিষয়গুলো ও সৎকাজ বৃদ্ধির চিন্তা করা উচিত। কারণ মতবিরোধ নিয়ে বিতর্কে কোন লাভ হয় না। আর সৎকাজের বিষয়ে প্রতিযোগিতা করা উচিত

দ্বিতীয়তঃ মুসলমানদেরকে এমন সব কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে যাতে করে শত্রুরা কোন মিথ্যা অজুহাত সৃষ্টিরও সুযোগ না পায়।

তৃতীয়তঃ কেবলা পরিবর্তন মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যবৃদ্ধি করা ছাড়াও অন্যদের কর্তৃত্বকামীতার মোকাবেলায় মুসলমানদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্রের রহস্য।

চতুর্থতঃ নবীগণ মানবজাতির জন্য আন্তরিক শিক্ষক ও প্রশিক্ষক। তারা শিক্ষা ও সংস্কারের মাধ্যমে সব সময় মানুষের দৈহিক ও আত্মিক প্রশান্তির চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। #

কোরআনের আলো

( ৪৪তম পর্ব )



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next