সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

কোরআনের আলো

( ৪৩ তম পর্ব )

কোরআনের আলোর এবারের পর্বে সূরা বাকারার ১৪৮ থেকে ১৫২ নম্বর আয়াতের অর্থসহ ব্যাখ্যা করা যাক। সূরা বাকারার ১৪৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "প্রত্যেকের জন্যে একটি দিক আছে যেদিকে সে মুখ করে দাঁড়ায়, অতএব তোমরা সৎ কাজের দিকে এগিয়ে যাও। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্রিত করবেন, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।"

কোরআনের আলোর গত পর্বে আমরা বলেছিলাম, কেবলার দিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ ইতিহাসে দেখা যায়, বিভিন্ন ধর্মের যুগে কেবলাও ছিল ভিন্ন ভিন্ন দিকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল্লাহর বিধানের কাছে আত্মসমর্পন। তাই যেসব বিষয় ধর্মের মূল নীতি সম্পর্কিত নয়, সেসব নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহর কাছে তারাই প্রিয় যারা সৎকাজ করে। অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্যের মানদন্ড-সৎ কাজ। মানুষকে অবশ্যই এ ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে বেশী অগ্রবর্তী হতে হবে এবং তর্ক-বিতর্কে না গিয়ে কাজে প্রমাণ দিতে হবে। প্রতিযোগীতা এমন একটি বিষয় যা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কখনও খেলাধুলার ক্ষেত্রে কখনও জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়েছে মানুষ। কিন্তু পবিত্র কোরআন বিশেষ কোন ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ না করে যা কিছু মানুষ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর সেসব বিষয়ে প্রতিযোগিতা করতে বলে এবং এ ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করতে বলেছে। কিন্তু এ ধরণের প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য

খোদামুখী বলে যা-ই করা হোক না কেন পাশাপাশি পুনরুত্থান বা কিয়ামতের কথাও চিন্তা করতে হবে এবং সেই সময়ের জন্য কাজ করতে হবে। কারণ প্রকৃত পুরস্কার সেখানেই পাওয়া যাবে।

এবারে সূরা বাকারার ১৪৯ ও ১৫০ নম্বর আয়াতের অর্থসহ ব্যাখ্যা করা যাক। এ দুই আয়াতে বলা হয়েছে, "হে নবী, যেখানেই আপনি বের হন, আপনার মুখমন্ডল পবিত্র কাবা মসজিদের দিকে ফেরান। এটা নিশ্চয় আপনার প্রতিপালকের কাছ থেকে পাঠানো সত্য। হে মুসলমানরা তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ উদাসীন নন এবং হে নবী, আপনি যেখান থেকেই বের হন পবিত্র মসজিদের দিকে মুখ ফেরাবেন এবং তোমরা মুসলমানরা যেখানেই থাক না কেন ওই মসজিদের দিকে মুখ ফেরাও যাতে তাদের মধ্যে সীমালঙ্ঘনকারী ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের সাথে বিতর্ক না করে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না, শুধু আমাকেই ভয় করো। তোমাদের জন্য আমার নিয়ামত পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে ও তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালনার জন্যে কেবলা পরিবর্তন করা হয়েছে।" এই দুই আয়াতে পুনরায় মক্কার কাবা ঘরকে কেবলা হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামের নবী ও মুসলমানদের কাছে এর বিভিন্ন যুক্তি থাকার কথা বলা হয়েছে।

প্রথমতঃ মুসলমানদের অনেকের কাছেই ইহুদীদের ঠাট্টা ও বিদ্রুপের ভয়ের কারণে কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ মেনে চলা কঠিন ছিল।

দ্বিতীয়তঃ ঐশীগ্রন্থ অনুসরণের দাবীদাররা তাদের গ্রন্থে এটা পড়েছিল যে ইসলামের নবী দুই কেবলার দিকে নামাজ পড়বেন। যদি এই বিষয়টি বাস্তবায়িত না হতো, তাহলে তারা বলতো আসমানী গ্রন্থগুলোতে শেষ নবীর যেসব লক্ষণ বা নিদর্শনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই নবীর মধ্যে সেসব নেই।

তৃতীয়তঃ আগের আয়াত ছিল শহরে থাকা অবস্থায় নামাজ পড়ার সাথে সম্পর্কিত। আর এই আয়াত হলো সফর করা অবস্থায় নামাজ পড়ার সাথে সম্পর্কিত। আর এই নামাজ মসজিদুল হারামের দিকে অর্থাৎ কাবাঘরের দিকে মুখ করেই পড়তে হবে। যা-ই হোক এটা হলো মুসলমানদের স্বাতন্ত্র পরিচয়ের প্রকাশ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বড় এক নেয়ামত যা সব সময় বজায় থাকবে।

এবারে সূরা বাকারার ১৫১ নম্বর আয়াতের অর্থসহ ব্যাখ্যা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, " হে মুসলমানরা, আমি আমার সম্পদ বা নেয়ামত তোমাদেরকে পূর্ণভাবে দান করেছি ও তোমাদের মুক্তি বা পথ প্রদর্শনের মাধ্যমগুলো দিয়েছি-যেমন আমি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যে আমার আয়াত সমূহ তোমাদের কাছে পাঠ করে, তোমাদের পবিত্র করে, গ্রন্থ ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যা জানতে পারছিলে না তা শিক্ষা দেয়।"



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next