সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

দ্বিতীয়তঃ সমাজের মুক্তি ও নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে হবে। মদ পান মানুষের বিবেক ও চিন্তাশক্তিকে দূর্বল করে এবং জুয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা, হিংসা, বিদ্বেষ ও অপরাধের জন্ম দেয় বলে ইসলাম এসবকে নিষিদ্ধ করেছে।

তৃতীয়তঃ সম্পদ যদি উদ্ধৃত্ব থাকে,তবে তা থেকেই ভারসাম্যপূর্ণ পরিমানে গরীবদের দান করতে হবে, যাতে গরীবরা দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পায়। এরফলে কেউ অপব্যয়ীও হবেনা আবার কৃপণও হবেনা।

চতুর্থতঃ যদি আল্লাহর বিধান সম্পর্কে আমরা চিন্তাকরি-তাহলে আমরা বুঝতে পারব, আল্লাহর প্রতিটি বিধানইব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে প্রণীত হয়েছে। তাই এইসব বিধানকে অবহেলা করা উচিত নয়।

পঞ্চমতঃ আশ্রয়হীন এতিম শিশুদেরকে একা ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। ইসলামী সমাজের উচিত তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও তাদের সম্পদ রক্ষা করা।

এবারে সুরা বাকারার ২২১ নম্বর আয়াতের অর্থ করা যাক । এই আয়াতের অর্থ হ'ল-অংশীবাদী নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদের বিয়ে করো না। এমনকি তাদের সম্পদ ও সৌন্দর্য তোমাদের মন হরণ করলেও ঈমানদার দাসী নিশ্চয়ই অংশবাদীনীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। অংশীবাদী পুরুষরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদের সাথে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দিওনা। অংশীবাদী পুরুষরা তোমাদের কাছে পছন্দনীয় হলেও বিশ্বাসী দাস তার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। এরাই তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহবান জানায়। আর আল্লাহ নিজের ইচ্ছায় তোমাদেরকে বেহেশত ও মাগফিরাতের দিকে আহবান করেন। আল্লাহ মানুষের জন্য তার নিদর্শন বর্ণনা করেন যাতে তারা স্মরণ করে। ইসলাম বিয়ে ও পরিবার গঠণকে বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করে। সহধর্মী বা সহধর্মীনী বেছে নেয়ার প্রথম ও প্রধানশর্ত হ'ল-আল্লাহর প্রতি যথাযথ ঈমান আনা। কারণ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে পারিবারিক পরিবেশ এবং পিতামাতার ব্যবহার ও আচার-আচরণের ধরণ সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে ব্যক্তির অর্থ-বিত্ত ও সামাজিক অবস্থান, বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে। আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় গুণাবলী এক্ষেত্রে খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছেনা। কিন্ত ধর্মীয় দৃষ্টিতে একজন ঈমানদার-দাস সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিচু শ্রেনীর হলেও অবিশ্বাসী স্বাধীন ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে পবিত্রতা হ'ল শ্রেষ্ঠত্বের মানদন্ড, সম্পদ ও পদ নয়। এই আয়াত থেকে আমরা যা যা শিখলাম তা হ'

প্রথমতঃ বিয়ের পবিত্র বন্ধন- অবশ্যই ঈমানের ভিত্তিতে হতে হবে, যাতে ভবিষ্যত বংশধর হয় পবিত্র ও সৎ

দ্বিতীয়তঃ বিয়ের পাত্র-পাত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাহ্যিক সৌর্ন্দয্যের চেয়ে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের প্রতি বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণ ও বৈষয়িক দিককে উপো করে বিয়ের ভবিষ্যত পরিণতির বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। অর্থাৎ এই বিয়েটি আমাদের জন্য বেহেশত লাভের পটভূমি সৃষ্টি করছে না দোযখের পটভূমি তৈরি করল তা নিয়ে ভাবতে হবে। সবশেষে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি-আমরা যেন আল্লাহর বিধানকে জেনে-সেসব বিধান মেনে চলতে পারি যাতে মদ ও জুয়ার মত অপবিত্রতা সমাজ থেকে বিদায় নেয় এবং দান খয়রাত,বঞ্চিতদের সাহায্য করা ও পবিত্র মুসলিম পরিবার গঠনের মাধ্যমে আমরা যেন সমাজের উন্নতি সাধন করতে পারি।#

 

কোরআনের আলো

( ৬০ তম পর্ব )



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next