সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

দ্বিতীয়তঃ যে কোন সামাজিক চুক্তি বা সমঝোতা ততণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য যতণ অন্য পক্ষ তা পালন করে। কোন সমঝোতা বা চুক্তিকে যখন অন্য পক্ষ অপব্যবহার করে তখন তা গ্রহণযোগ্য থাকে না।

তৃতীয়তঃ শত্রুদের সাথে মোকাবেলার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে এবং ন্যায়ের সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না।

এবারে সূরা বাকারার ১৯৫নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, "তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর, তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না, তোমরা সৎকাজ কর, নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।"

আগের আয়াতে জিহাদ ও শত্রুদেরকে তাদের অনুরূপ কাজের মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটা স্পষ্ট, কোন যুদ্ধই অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ জিহাদের ময়দানে মুজাহিদদের ও তাদের পরিবারের চাহিদা পূরণ ছাড়া সম্ভব নয়। যদি মুসলমানরা আল্লাহর পথে জীবন ও অর্থ দিতে রাজী না হয় তবে তারা পরাজিত হবে এবং নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। অবশ্য শান্তির সময়ও যদি ধনীরা সমাজের গরীবদের সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা না করে এবং খোমস্ ও জাকাত দেয়াসহ আল্লাহর পথে দান করা থেকে বিরত থাকে, তবে স্বাভাবিকভাবেই ধনী ও গরীবদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেবে। এর পরিণামে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা ও অবিচারের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কারণ আল্লাহর পথে ব্যয় ও অন্যদের সাহায্য করা সম্পদের বন্টনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য সৃষ্টি করে এবং এভাবেই সম্পদ ও পুঁজি টিকে থাকে।

হযরত আলী (আঃ) যেমনটি বলেছেন, জাকাত দিয়ে নিজের সম্পদ রক্ষা কর। এই আয়াতের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিকগুলো হচ্ছে,

প্রথমতঃ যখনই কৃপণতা ও সম্পদ জমা করা সমাজে প্রচলিত হয়ে পড়ে, তখন সমাজের মর্যাদা ও অস্তিত্ব বিলীন হবার সম্মুখীন হয়।

দ্বিতীয়তঃ যেসব কাজ মানুষের জীবনের জন্য ক্ষতিকর এবং যা ধ্বংসের কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখে সেসব কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি আমরা যেন আল্লাহর পথে নিজেদের জীবন ও সম্পদকে উৎসর্গ করতে পারি এবং নিজেকে রক্ষার চেয়ে ধর্মরক্ষাকে বেশী প্রাধান্য দেই। কারণ আমাদের সৌভাগ্য আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপরই নির্ভর করছে অন্যদের সন্তুষ্টির ওপর নয়।#

 

কোরআনের আলো

( ৫৪তম পর্ব )



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next