সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

তাকওয়া অবলম্বন করেছে। তোমরা দরজা দিয়ে ঘরসমূহে প্রবেশ করবে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর,যাতে তোমরা সৎকর্ম সম্পাদনকারী বা সফলকাম হতে পার।"

ইসলাম ধর্মের অন্যতম বিশেষ সুবিধে হ'ল এই যে, এর বিধানগুলো প্রকৃতির সময়ের সাথে তুলনা করে প্রণীত হয়েছে। যেমন-নামাজের বিভিন্ন সময় নির্ধারন করা হয় সূর্যোদয়,সূর্যাস্ত ,মধ্যআকাশে সূর্যের অবস্থান প্রভৃতির মাধ্যমে। চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজানের রোজা রাখা হয় এবং হজ্জ পালন করা হয়। আর প্রকৃতির ক্যালেন্ডারকে সব মানুষই মেনে চলে। মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য দিনপঞ্জী বা ক্যালেন্ডারের প্রয়োজন রয়েছে। চাঁদের আবর্তন তথা নতুন চাঁদ ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা নির্ধারক এবং এর মাধ্যমে পার্থিব কাজ ছাড়াও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সময়মত পালন করা যায়। হজ্জের সময় সম্পর্কিত আয়াতের সূত্র ধরে এ আয়াতে ইসলাম পূর্ব-যুগের মুশরিকদের একটি কূ-সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কুসংস্কারটি হ'ল-এহরামের পোশাককে বৈষয়িক জীবনাচার বর্জনের প্রতীক ধরে নিয়ে এহরামের সময় স্বাভাবিকভাবে ঘরে প্রবেশ না করে মুশরিকরা পেছনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করতো। কিন্তু পবিত্র কোরআন এসব কাজকে ইবাদতের মধ্যে যুক্ত করা কুসংস্কার বলে উল্লেখ করেছে এবং কোরআন বলছে, "যদি সৎকাজ করতে চাও তবে খোদাভীরু হও ও একই সাথে যে কোন কাজ স্বাভাবিক পন্থায় কর। হজ্জের সময় নির্ধারনের জন্য তোমরা যেরকম নতুন চাঁদকে ব্যবহার কর। ঠিক তেমনি ভাবে আল্লাহর নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য অবশ্যই আল্লাহর নবী-রাসুলদের শরনাপন্ন হও। তাঁরাই সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের মানদন্ড এবং তারা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। নিজেদের খেয়াল খুশীর অনুসরন করো না। ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশীর অনুসরন না করার মধ্যেই রয়েছে সাফল্য ও সৌভাগ্য।"

এবারে এ আয়াতের শিক্ষাগুলো একে একে উল্লেখ করছি।

প্রথমতঃ সময়ের আলোকে মানুষের জীবনের কর্মসূচী নির্ধারন করা উচিত। কারণ আল্লাহও সময়ের আলোকে মানুষের ইবাদতের কর্মসূচী নির্ধারন করেছেন।

দ্বিতীয়তঃ সৎকাজ হ'ল এমন সব কাজ যা করতে বিবেক ও আইন নির্দেশ দেয়। সৎ-কজের ভিত্তি হ'ল তাকওয়া বা খোদাভীতি। পূর্ব-পুরুষদের প্রথা ও কুসংস্কার এসব সৎকাজের ভিত্তি নয়। সবশেষে আমরা যেন আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ধর্মীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারি,সেজন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি এবং নিজেদের খেয়াল-খুশী ও ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে থাকার তৌফিক কামনা করছি। #

কোরআনের আলো

( ৫৩ তম পর্ব )

কোরআনের আলোর এবারের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ১৯০ থেকে ১৯৫ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই সূরা বাকারার ১৯০ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা যাক। এ আয়াতে বলা হয়েছে, "যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে তোমরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, কিন্তু সীমালঙ্ঘন কর না, আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীকে ভালবাসেন না।" শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মরা করা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। কিন্তু কোরআন সব ধরণের বাড়াবাড়ির বিরোধীতা করে। কোরআন বলছে, "শত্রুকে ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর আগে অস্ত্র ব্যবহার করো না এবং যুদ্ধের সূচনাকারী হয়ো না। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত নয় তাদের ওপর হামলা করো না, এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও মানবিক দয়া ও মানবিক দিকগুলো মেনে চলতে হবে।" এই আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হচ্ছে,

প্রথমতঃ জিহাদ অবশ্যই আল্লাহর জন্য ও আল্লাহর পথে হতে হবে। জিহাদ ও ধর্মযুদ্ধ দেশের সীমানা বাড়ানো বা জাতিগত দ্বন্দ্বের জন্য নয়।

দ্বিতীয়তঃ যুদ্ধের সময়ও ন্যায় পরায়ণতা বজায় রাখতে হবে এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না।



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next