সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

তৃতীয়তঃ ইসলাম বৈরাগ্যের ধর্ম নয়। তাই দিনের বেলা ইবাদতের পর ইসলাম রাতে বৈধ আরাম আয়েশের অনুমতি দেয়। এটা ইসলামের পূর্ণতার নিদর্শন এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণই যে ইসলামের লক্ষ্য-তা এই বিধান থেকে বোঝা যায়।

চতুর্থতঃ আল্লাহ যখন মানুষের প্রবৃত্তির বৈধ চাহিদা পূরণের সুযোগ দেন,তখন পাপে লিপ্ত হবার কোন অজুহাত থাকেনা।

পঞ্চমতঃ পাপের কাছাকাছি হলেই পাপ মানুষকে গ্রাস করে। তাই আল্লাহ পাপে লিপ্ত হতে নিষেধ করার জন্য পাপের ধারে কাছেও না যাবার কথা বলেছেন।

ষষ্ঠতঃ দিনের বেলা রোজা রাখা বা রাতে আরাম-আয়েশ করা-এসব কিছুরই লক্ষ্য হ'ল-খোদাভীতি অর্জন ও পাপ থেকে দূরে থাকা।

এবারে সূরা বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতের অর্থ করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হ'ল-"তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের ধন অন্যায় ভাবে গ্রাস করোনা এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-শুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার জন্য বিচারকদেরকে ঘুষ দিওনা।" এই আয়াতে অবিচার ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিকারী দুই ধরনের গোনাহর কথা উল্লেখ করে মুসলমানদেরকে তা থেকে কঠোর ভাবে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

প্রথমতঃ অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা এবং দ্বিতীয়টি হ' মানুষের সম্পদ গ্রাসের জন্য বিচারককে ঘুষ দেয়া।পবিত্র কোরআন এই দু'টি কাজকেবাতিল'ইসম' বলে নিন্দা করেছে, যার অর্থ হ'ল বিবেকের দৃষ্টিতে অন্যায় এবং আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ ও অবৈধ। অনেকে তাদের অবৈধ কাজকে বৈধ দেখানোর জন্য ঘুষকেউপহার' বলে উলে-খ করে। ইতিহাসে দেখা যায়,কোন এক ব্যক্তি ইমাম হযরত আলী (আঃ)র ঘরে হালুয়া নিয়ে এসেছিল এই আশায় যে,ইমাম তার পে বিচারে রায় দিবেন। ইমাম ঐ ব্যক্তিকে বলেন, খোদার কসম আমাকে ৭টি রাজ্য দেয়ার বিনিময়ে একটা পিঁপড়ার মুখ থেকেও যদি অন্যায়ভাবে একটা যবের ছাল কেড়ে নিতে বলা হয়, আমি তা করবোনা। এই আয়াতে শিণীয় দিকগুলো হ'ল-

প্রথমতঃ ইসলাম জনগণের সম্পদকে সম্মান করে এবং অন্যের সম্পদ দখলের অনুমতি দেয়না।

দ্বিতীয়তঃ মালিকানা বৈধ ও যথাযথ হতে হবে।অন্যায়ভাবে জনগণের সম্পদ কেড়ে নেয়া হলে তা প্রকৃত মালিকানা হবেনা এবং এমনকি বিচারকের রায়ও অবৈধ মালিকানাকে বৈধ করতে পারেনা।

তৃতীয়তঃ ঘুষ দেয়া ও নেয়া হারাম। ঘুষকে পারিশ্রমিক বা উপহার বললেও তা বৈধ হবেনা।

এবারে সূরা বাকারার ১৮৯ নম্বর আয়াতের অর্থ করা যাক। এই আয়াতের অর্থ হলো, "হে নবী, লোকেরা আপনাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে,আপনি বলুন, ওটা মানুষ এবং হজ্বের জন্য সময় নির্দেশক।পেছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশে তোমাদের জন্য কোন পূণ্য নেই, বরং পুণ্য তারই,যে সংযম বা



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next