সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

প্রথমতঃ ইসলাম খাদ্যের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে এবং হালাল ও হারাম খাদ্যের বিষয়ে বারবার পরামর্শ দিয়েছে ও সতর্ক করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ শুধু দোয়া ও ইবাদতের সময় আল্লাহকে স্মরণ করা নয়, খাওয়া- দাওয়ার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ করতে বলেছে ইসলাম। তাই যেসব প্রাণীকে আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা হয়নি তা খাওয়া জায়েজ নয়।

তৃতীয়তঃ হারাম উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিশুদ্ধতম খাবারও যদি তৈরী করা হয়-তা হবে পেটে আগুন ঢোকানোর মতই যন্ত্রণাদায়ক।

চতুর্থতঃ যদিও দুনিয়াতে আল্লাহ হযরত মূসা(আঃ)এর মত নবীদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সমস্ত সৎ বান্দারাও আল্লাহর কথা শুনতে পাবে।

পঞ্চমতঃ যদি দুনিয়ার সমস্ত কিছুর বিনিময়েও ধর্ম বিক্রি করা হয় তাহলেও তা ক্ষতি।

ষষ্ঠতঃ সত্যকে না জানা বা না চেনার কারণে বহু মানুষ ঈমান আনে না এমনটি ঠিক নয় বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা এতই সত্য বিরোধী যে জানা সত্ত্বেও সত্যকে মানতে রাজী নয়।

কোরআনের আলো

( ৪৯তম পর্ব )

কোরআনের আলোর এবারের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ১৭৭ থেকে ১৭৯ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো। ১৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "নামাজের সময় পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানোতে তোমাদের জন্যে কোন সওয়াব বা পূণ্য নেই বরং পূণ্য তার, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ ও ঐশী গ্রন্থসমূহ এবং নবীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। আর অর্থের প্রতি আসক্ত থাকা সত্ত্বেও যারা আত্মীয়-স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, পথিক ও ভিক্ষুকদের এবং দাসত্ব মোচনের জন্যে ধন-সম্পদ দান করে ও নামাজ প্রতিষ্ঠাসহ যাকাত দান করে, আর ওয়াদা করলে তা পূরণ করে এবং যারা অভাব, বঞ্চনায় ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য ধারণ করে এরাই ঈমানের দাবীতে কথায়, আচরণে ও বিশ্বাসে সত্যবাদী এবং এরাই ধর্মভীরু।"

কোরআনের পূর্ণতম আয়াতগুলোর মধ্যে এই আয়াত অন্যতম। বিশ্বাস, কাজ ও নৈতিক চরিত্রের দিক থেকে ইসলামের দৃষ্টিতে পূণ্য বা সওয়াবের মূল নীতি এই আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) যেমনটি বলেছেন, যেকেউ এই আয়াতের বাস্তবায়ন করে তার পূর্ণ ঈমান রয়েছে। কেবলা পরিবর্তন সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আমরা যেমন বলেছিলাম ইহুদীরা এ বিষয় নিয়ে খুব হৈ-চৈ তুলে বিষয়টিকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। এই আয়াতে তাদেরকে আরো একটি জবাব দিয়ে বলা হল, তোমরা মনে করো না আল্লাহর ধর্ম শুধু কেবলা বা নামাজের দিকের মধ্যেই সীমিত। আর তাই এ নিয়েই সমস্ত চিন্তা-ভাবনা তোমাদের মাথায় ধুরপাক খাচ্ছে। বরং আল্লাহর ধর্মের মূল বিষয় হল তিনটি। আর তারাই প্রকৃত সৎকর্মশীল যারা ধর্মের সব দিকেই পূর্ণ গুরুত্ব দেয়। ধর্মের একটি দিক হলো বিশ্বাস। খোদ ফেরেশতা, আসমানী কিতাব ও নবী রাসূলদের প্রতি প্রত্যেক মানুষের আন্তরিক বিশ্বাস থাকতে হবে। এটা স্পষ্ট, বাস্তবে বা কাজের মধ্যে এই বিশ্বাসের দৃষ্টান্ত দেখাতে হলে নামাজের মত অবশ্যপালনীয় ইবাদত সম্পন্ন করাসহ দরিদ্র ও বঞ্চিতদের জাকাতের মাধ্যমে অর্থ সাহায্য করতে হবে। আর এটা হল ধর্মের দ্বিতীয় অংশ। শুধু আল্লাহও আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক রাখাও যথেষ্ট নয়। এই সম্পর্ক হতে হবে সঠিক পন্থায় এবং ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার মত নৈতিক গুণাবলীর প্রকাশ ঘটিয়ে সমস্ত মানবীয় ও ঐশী অঙ্গীকারগুলো পালন করতে হবে।



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next