সূরা বাকারার তাফসীর-৩

রেডিও তেহরান

দ্বিতীয়তঃ আল্লাহর জায়গায় অন্য কিছুকে বা কাউকে ভালোবাসা শির্ক এবং তা আল্লাহ থেকে দূরে থাকার শামিল।

তৃতীয়তঃ ঈমানের লক্ষণ হলো আল্লাহর প্রতি গভীর প্রেম ও ভালোবাসা, যা কাজে-কর্মে প্রকাশ পেতে হবে।

চতুর্থতঃ কিয়ামতের দিন প্রবৃত্তির খেয়ালীপনার কারণে জন্ম নেয়া মিথ্যা ভালোবাসা ঘৃণা ও অভিশাপে পরিণত হবে।

পঞ্চমতঃ খোদাবিমুখ নেতৃবৃন্দ ও তাগুতি শক্তি, কিয়ামতের দিন যে শুধু ক্ষমতাবিহীন থাকবে তা নয়-তারা এত দায়িত্বহীন হবে যে, নিজেদের অনুসারীদের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করবে। #

কোরআনের আলো

( ৪৭ তম পর্ব )

কোরআনের আলোর এবারের পর্বে আমরা সূরা বাকারার ১৬৭ নম্বর থেকে ১৭১ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো। ১৬৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "যারা বিভ্রান্ত নেতৃবৃন্দের অনুসরণ করেছিল, তারা পুনরুত্থান বা কিয়ামতের দিন বলবে, হায়! যদি পৃথিবীতে একবার আমাদের প্রত্যাবর্তন হত তবে আমরাও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, যেমন তারা আমাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। এইভাবে আল্লাহ তাদের কার্যাবলী তাদের পরিতাপরূপে তাদের দেখাবেন, আর তারা কখনও দোযখের আগুন থেকে বের হতে পারবে না।"

গত পর্বে আমরা বলেছিলাম, অপরাধীরা যখন আল্লাহর শাস্তি দেখবে, তখন তাদের নেতৃবৃন্দরা অনুসারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। কারণ যে ভালবাসার ভিত্তি খেয়ালীপনা তা কিয়ামতের দিন ঘৃণা ও বিদ্বেষে রুপান্তরিত হয়। এই আয়াতে বলা হচ্ছে নরকবাসীরা দুনিয়ায় ফিরে আসার জন্য আল্লাহর কাছে তাদের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করবে যাতে তাদের বিভ্রান্ত নেতৃবৃন্দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায়। কারণ তাদেরকে অনুসরণের ফলে, অনুতাপ ও অনুশোচনা ছাড়া কিছুই অর্জিত হয়নি। কিন্তু অনুতাপ আর দুঃখ কোনই কাজে আসবে না এবং পৃথিবীতে ফিরে আসারও কোন পথ থাকবে না। যারা মনে করে মানুষের স্বাধীনতা নেই এবং মানুষ যা-ই করে না কেন তা করতে সে বাধ্য থাকে বলেই করে-এ আয়াত তার বিরোধী এবং কাজে কর্মে মানুষের স্বাধীনতা থাকার বিষয়টি সমর্থন করে। কারণ অনুতাপ, আফসোস এসব মানুষ এ জন্যে করে যে সে অন্য পথে চলতে পারতো, অথচ নিজের ইচ্ছায় ভুল পথ বেছে নিয়েছে।

এবারে সূরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো। এ আয়াতে বলা হয়েছে, "হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য আছে, তা হতে তোমরা খাও এবং শয়তানের পথ অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।" খাওয়া ও পান করা একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং সব মানুষের জন্যেই খাদ্যগ্রহণ একটি মৌলিক চাহিদা। কিন্তু অন্য অনেক বিষয়ের মত এ ক্ষেত্রেও চরম পন্থা ও বাড়াবাড়ির ঘটনা ঘটে। অনেকে কোন মানদন্ড ও বিধান ছাড়াই যা ইচ্ছা তা-ই খেয়ে থাকেন ও পান করেন। তারা এটা ভেবেও দেখতে চান না যে এটা কি বিবেক সম্মত বা অবৈধ কিনা এবং তা কি বৈধ না অবৈধ পন্থায় অর্জিত হয়েছে ? তারা শুধু পেট পূজা ও প্রবৃত্তির পূজায় লিপ্ত। অন্যদিকে আরেক দল আছেন যারা গ্রহণযোগ্য কোন যুক্তি ছাড়াই বৈধ অনেক কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছেনতাই এই আয়াতে বলা হয়েছে পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা তোমাদের জন্যেই সৃষ্টি করেছেন। তাই যা কিছু হালাল, পবিত্র এবং স্বাস্থ্য সম্মত তা খাও এবং অনর্থক এটা হালাল ওটা হারাম করো না। এটা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য করার জন্য শয়তানের কর্মসূচী মাত্র। যেমনটি হযরত আদম ও হাওয়া শয়তানের ধোকায় পড়ে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়েছিলেন। একই সাথে মদের মত নিষিদ্ধ বা হারাম পানীয় পান করা শয়তানের কাজ এবং হালাল খাবারও কুসংস্কার বশে বা খেয়ালীপনার বশে না খাওয়াটা শয়তানের কাজ।

সূরা বাকারার ১৬৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, "শয়তান তো কেবল তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের আদেশ করে এবং আল্লাহ সম্পর্কে যা জাননা এমন কিছু বলার নির্দেশ দেয়।" আগের আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। এই আয়াতে বলা হচ্ছে, শয়তানের শত্রুতার লক্ষণ হলো সে সব সময় তোমাদেরকে নোংরা ও অশ্লীল কাজের দিকে আহ্বান জানাবে যার ফলে তোমাদের জন্য দূর্ভাগ্য ও লাঞ্ছনা ছাড়া অন্য কিছু অর্জিত হয় না। অবশ্য আমরা নিজেরা কর্তৃত্ব করার সুযোগ করে না দিলে শয়তান আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে না। শয়তানের নির্দেশ বলতে অন্যায়ের প্রতি শয়তানের প্ররোচনা বা কুমন্ত্রণাকে বোঝানো হয়েছে। যাদের ঈমান যত দূর্বল তাদের ওপর শয়তানের কূমন্ত্রণাও তত বেশী কার্যকরী হয়। শয়তান পাপ কাজের দিকে আমন্ত্রণ জানায় এবং এর কৈফিয়ত বা অজুহাতের পথও দেখিয়ে দেয়। আল্লাহকে অপবাদ দেয়া অন্যায়ের বা পাপের বিভিন্ন পন্থাগুলোর অজুহাত ও পরিবেশ সৃষ্টি করে। মানুষ অজ্ঞতাবশত: কোন পাপ কাজ করে বসে এবং পরে নিজেকে ভাল দেখানোর জন্য সে ঐ কাজের জন্য আল্লাহকে দায়ী করে বা অপবাদ দেয়।



back 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 next